কলকাতার এই বিজ্ঞানীর তত্ত্বাবধানে বানানো হচ্ছে ‘আদিত্য-এল ১’-এর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ
কিছুদিন আগেই চাঁদের দিকে সফলভাবে পাড়ি জমিয়েছে ‘চন্দ্রযান-২’। ইসরোর এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী চন্দ্রকান্ত কুমার। হুগলি জেলার বাসিন্দা চন্দ্রকান্তর তত্ত্বাবধানে বানানো হয়েছিল ‘চন্দ্রযান-২’-এর অ্যান্টেনা। চাঁদের পর ইসরো সূর্যকেও ছুঁতে চাইছে এবার। সব ঠিকঠাক থাকলে ইসরোর কৃত্রিম উপগ্রহ ‘আদিত্য-এল ১’ আগামী বছরের প্রথম দিকেই শ্রীহরিকোটা থেকে সূর্যের দিকে রওনা দেবে। এই সূর্য অভিযানেও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী। কলকাতার লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখানে এক নতুন কক্ষপথ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তার নাম রাখা হয়েছে ‘ল্যাগরাঞ্জিয়ান পয়েন্ট’। এখানে রয়েছে পাঁচটি বিন্দু, যেখানে কোনো মধ্যাকর্ষণ না থাকায় পৃথিবী, সূর্য এবং চাঁদ একে অপরকে বিকর্ষণ করে। পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেই কক্ষপথে নাসার পর ইসরো উপগ্রহ পাঠাতে চলেছে। এল-১ বিন্দুতে থেকে সেটি পৃথিবীর মতোই সূর্যের চারদিকে ঘুরবে। ‘চন্দ্রযান-২’ যতটা দূরত্ব অতিক্রম করছে, তার থেকে চার গুণ বেশি দূরে যাবে ‘আদিত্য-এল ১’। ল্যাগরাঞ্জিয়ান পয়েন্টে যেতে এর সময় লাগবে এক মাস বা তার কিছু বেশি। তারপর এটি সূর্যের করোনা আর ক্রোমোস্ফিয়ারের দিকে নজর রাখবে। সূর্যের গায়ে যে আগুনের রেখাগুলি রয়েছে, সেগুলির নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে।
এই কৃত্রিম উপগ্রহে লাগানো থাকবে সাতটি পে-লোড। সেগুলির মধ্যে একটি হল ভিজিবল এমিশন লাইন করোনোগ্রাফি বা ভিইএলসি। এই যন্ত্রাংশ সূর্যের করোনার ছবি তুলবে। সূর্যের মধ্যে চলতে থাকা বিভিন্ন পরিবর্তন, বিশেষ করে সূর্যের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে বিস্তারিত জানতে এটি কাজে লাগবে। বাঙালি বিজ্ঞানী দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধায়ের তত্ত্বাবধানে এই যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স এবং রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের এই প্রাক্তনী বর্তমানে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে কর্মরত।
মঙ্গলায়নের পর মিশন সূর্যই হতে চলেছে ইসরোর সবথেকে বড়ো মহাকাশ অভিযান। ভারতের সবথেকে অত্যাধুনিক উপগ্রহ ‘আদিত্য-এল ১’-এর বেশিরভাগ অংশই বানানো হয়ে গেছে। সূর্য অভিযানে ইসরোর সঙ্গে রয়েছে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, পুনে ও কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, আহমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি এবং পুনের ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স।