১৩০ কোটি ভারতবাসীর স্বপ্ন নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিল চন্দ্রযান-২

আজ সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উড়ান শুরু হল

১৩০ কোটি ভারতবাসীর স্বপ্ন নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে অবশেষে পাড়ি দিল চন্দ্রযান-২। কোনো সিনেমার চরিত্র নয়, রকেটের নাম বাহুবলি জিএসএলভি মার্ক-৩। ইসরোর এই রকেটেই চাঁদের নতুন রহস্য উদঘাটনের জন্য রওনা দিল একটু আগেই। আগেরবার এই অভিযান থেমে গিয়েছিল ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে। সেই ধাক্কা সামলে আজ সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উড়ান শুরু হল।

শুধু তাই নয়, চাঁদে এই অভিযানের পিছনে থেকে গেল একজন বাঙালির নামও। হুগলির বাসিন্দা চন্দ্রকান্তের তৈরি করা অ্যান্টেনার সাহায্যেই মহাকাশে পাড়ি দিল চন্দ্রযান-২। ভারতের ইতিহাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যত মাইলফলক, তার সবেতেই জড়িয়ে গেছে এক বা একাধিক বাঙালির নাম। কৃতি বাঙালি বিজ্ঞানীরা ইসরোতে মহাকাশ গবেষণায় ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। চন্দ্রকান্ত কুমার তাঁদেরই একজন। মহাকাশে চন্দ্রযান-২ রওনা দিলে তার সঙ্গে যোগাযোগ, তার যন্ত্রপাতি বিগড়ে গেলে সেগুলোকে সারিয়ে তোলা – এই সবকিছুর দায়িত্বে এখন চন্দ্রকান্ত। ইসরো জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর পৃথিবীর চারদিকে ঘুরপাক খেয়ে চাঁদের কক্ষপথে ঢুকে পড়বে চন্দ্রযান। পূর্ব নির্ধারিত সময়মতোই আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখ ‘লুনার সারফেস’ বা চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবে যানটি। 

বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের মাটিতে সৃষ্টির আদি সময়ের ফসিল অবিকৃত অবস্থায় থাকতে পারে। তবে সর্বত্র নয় অবশ্যই। চাঁদের যেসব জায়গা সূর্যবিমুখ, শুধু সেইখানেই থাকার সম্ভাবনা। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যেহেতু বেশ কিছু এলাকায় সূর্যরশ্মি সরাসরি এসে পড়ে না, তাই সূর্যের বিকিরণগত পরিবর্তনও সেখানে কম হওয়ার সম্ভাবনা। আর তাতেই ফসিল অবিকৃত থাকবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। আর চন্দ্রযান ২-এর অভিযাত্রী যান ‘প্রজ্ঞান’ আধুনিক প্রযুক্তি মারফত খুঁজে বার করবে সেই তথ্যই। অন্তত এমনই আশায় ৮৫১ কোটি টাকার এই প্রকল্প পরিকল্পনা করেছে ইসরো। সেইসঙ্গে চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান-১ যে জলকণার সন্ধান পেয়েছিল, তা নিয়ে আরও বিশদ গবেষণা করবে চন্দ্রযান-২। এর মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফের অস্তিত্ব সন্ধানের চেষ্টা যেমন থাকবে, তেমনই থাকবে চাঁদের মাটিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ও রাসায়নিক খুঁজে বের করার চেষ্টাও। সেইসঙ্গে চাঁদের মাটিতে বিশেষ গভীরতা পর্যন্ত গর্ত খুঁড়ে তার তাপমাত্রা, কম্পনের প্রক্রিয়াও জানার চেষ্টা করবে ‘প্রজ্ঞান’। আর এই সবকিছুই হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে।

Developed by DXDasia