ক্রিসমাসের মরসুমে খোলা মাঠে মনের আনন্দে ছবি আকাঁয় মেতে উঠলেন শিল্পীরা

বালি সাধারণ গ্রন্থাগারের অনবদ্য উপহার

বছরের শেষে এক দারুণ উপহার দিল বালি সাধারণ গ্রন্থাগার। টানা পাঁচ দিন ধরে চলল আবৃত্তি, গল্প বলার আসর, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্ক সভা, কুইজ রংবেরঙের আরও নানান অনুষ্ঠান। বড়োদিনের দুপুরে খোলা মাঠে মনের আনন্দে ছবি আকাঁয় মেতে উঠলেন শিল্পীরা। 

২১ থেকে ২৫ ডিসেম্বর বালি গ্রন্থাগারের নিজস্ব শতবার্ষিকী হলে এবং শান্তিরাম স্কুলে অনুষ্ঠিত হল বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও চারুকলা উৎসব। আয়োজনে বালি সাধারণ গ্রন্থাগার। প্রথম দিন ছিল কচিকাঁচাদের কুইজ প্রতিযোগিতা। প্রায় ২০০ শিশু-কিশোর তাতে অংশ নিয়েছিল। ২২ তারিখ সকালে ছিল রচনা প্রতিযোগিতা। এছাড়াও সেদিন আয়োজিত হয় বিতর্ক সভা ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতার আসর। অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। বিতর্ক সভার বিষয়: “সভার মতে ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু”। পক্ষে বিপক্ষে ১৫ জনের যুক্তিজালে সভা বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। সভার পক্ষে যারা যোগ দিয়েছেন, তাঁরা বললেন, সব ধর্মই তৈরি হয়েছে মানবতার প্রয়োজনে। ভণ্ড ধর্মীয় নেতারা অনেক সময়েই ধর্মকে সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, কিন্তু সব ধর্মের প্রবক্তারাই উপদেশ দিয়ে গিয়েছেন নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করার। সভার বিপক্ষে এই মত উঠে আসে যে, তাত্ত্বিকভাবে সব ধর্ম মানবতার কথা বললেও ধর্ম আসলে ক্ষমতালোভীদের হাতিয়ার। বিদ্বেষ ছড়াতে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। তাই ধর্মকে ত্যাগ করে মানবতার ওপর জোর দেওয়াই যুগের দাবি। সেদিন দ্বিতীয়ার্ধে হয় শিশু-কিশোরদের বয়সভিত্তিক আবৃত্তি ও গল্প বলার প্রতিযোগিতা। 

বড়োদিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল সকালে শিশুদের হাতের লেখা প্রতিযোগিতা দিয়ে। তারপর বসে আঁকো প্রতিযোগিতা – প্রায় চারশো শিশু অংশ নেয় তাতে। শিশু-কিশোদের প্রতিযোগিতাগুলি সম্পর্কে অন্যতম আয়োজক অনুমিতা ভট্টাচার্য জানালেন, “এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুদের জন্য এই প্রতিযোগিতাগুলির আয়োজন আমরা করে থাকি। প্রতিযোগিতায় কোনো প্রবেশমূল্য থাকে না, প্রতিযোগীদের জন্য টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়। সব মিলিয়ে ৫০০-৬০০ কচিকাঁচা এবারের প্রতিযোগিতাগুলোয় অংশ নিয়েছে। 

বড়োদিনের প্রধান আকর্ষণ অবশ্য ছিল ‘শিল্পীশিবির’। আয়োজনে বালি সাধারণ গ্রন্থাগার কর্মী সমিতি। দুপুরের পর খোলা মাঠে বালি ও সংলগ্ন এলাকার ১০ জন শিল্পী ছবি আঁকলেন, আরও বিভিন্ন রকম সৃজনকর্মে মেতে রইলেন। শিল্পীদের আঁকা ছবি প্রদর্শিত হল বিক্রির জন্য। ছবি বিক্রির অর্থ জমা পড়ে গ্রন্থাগার কর্মী সমিতির তহবিলে। সেদিন কুইজ প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন স্থানীয় মানুষেরা। সব মিলিয়ে ৫ দিনের উৎসব ছিল জমজমাট। 

Developed by DXDasia