মেঘের কোলে ছোটা মাঙ্গোয়া

দিগন্ত বিস্তৃত কমলালেবুর বাগান

মেঘের কোলে ছবির মতো সুন্দর গ্রাম ছোটা মাঙ্গোয়া। দার্জিলিং শহরের খুব কাছেই, গাড়ি করে যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো। পাহাড়ের রানিকে দেখতে গিয়ে যদি ভিড়ভাট্টা পছন্দ না হয়, তাহলে সহজেই চলে যেতে পারেন ছোট্ট এই গ্রামে। পর্যটকদের কাছে এখনও খুব বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তবে যাঁরা গিয়েছেন, ছোটা মাঙ্গোয়ার মনোরম স্মৃতি মন থেকে কোনোদিন মুছে ফেলতে পারবেন না।

কমলালেবুর বাগানে ঘেরা গ্রামটিতে পরিবেশের যত্ন নেওয়া হয় খুব আন্তরিকভাবে। অতিথিপরায়ণ হিসেবে গ্রামবাসীদের খ্যাতি রয়েছে। মায়াবী প্রকৃতি আপনাকে মুগ্ধ করবে। মাঙ্গোয়া পাহাড়ের ওপর গ্রামটির অবস্থান। সুন্দরী তিস্তা বয়ে চলেছে উপত্যকা দিয়ে। ঝলমলে সকালে আপনার চোখে পড়বে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ – কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাছেই তিনচুলে।

প্রায় ১৫০টির মতো পরিবার বাস করে ছোটা মাঙ্গোয়া গ্রামে। বেশিরভাগ বাসিন্দা চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত। ধানের পাশাপাশি ফলিয়ে থাকেন স্কোয়াস, লেবু, কমলালেবু। দিগন্ত বিস্তৃত ফলের বাগান এত মোহময়, কাশ্মীরের আপেল বাগানকেও কোথাও কোথাও সৌন্দর্যে টেক্কা দেবে। 

পাখিদের সঙ্গে যদি সময় কাটাতে চান, ছোটা মাঙ্গোয়া তাহলে আদর্শ জায়গা। চাইলে তিস্তা নদীতে রাফটিং করতে পারেন। টাকলিংয়ে রয়েছে এক পুরোনো মঠ। সময় করে একবার ঘুরে আসুন। তিনচুলেও যেতে পারেন ইচ্ছে হলে। আর যেতে পারেন তাকদা টিবেটান মেডিক্যাল সেন্টারে। তিনচুলে থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে। 
 

কীভাবে যাবেন
গাড়ি করে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন অথবা বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে যাবেন মহানন্দা অভয়ারণ্যের দিকে। ঘন সবুজ অভয়ারণ্য এবং সেভক পেরিয়ে আপনাকে তিস্তা সেতু ও তিস্তা বাজারের মধ্যে দিয়ে চলতে হবে। পাহাড়ি রাস্তা ধরে যাবেন বড়া মাঙ্গোয়া। তারপর কমলালেবুর বাগান পার করে বড়ো রাস্তা থেকে বেরিয়ে ছোটা মাঙ্গোয়া গ্রামে পৌঁছবেন। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে আড়াই ঘণ্টা আর বাগডোগরা থেকে ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।
কোথায় থাকবেন
ছোটা মাঙ্গোয়াতে থাকার জন্য কটেজ এবং হোমস্টে রয়েছে। পরিবার অথবা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আরামে কয়েকদিন কাটিয়ে দিতে পারবেন।
Developed by DXDasia