“বিজেপি হারাও, বাংলা বাঁচাও” – ডাক দিচ্ছেন চারু মজুমদারের ছেলে

সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক তিনি

“বিজেপি হারাও, বাংলা বাঁচাও”, এটাই এবারের ভোটে মূল শ্লোগান নকশালপন্থী দল সিপিআই (এমএল) লিবারেশন দলের। তাঁদের মতে, বিজেপি একটি ফ্যাসিস্ট, সাম্প্রদায়িক দল। পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীলতার দুর্গ। এরাজ্যের মানুষ অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে জানে। বিজেপি এই প্রগতিশীলতা ভেঙে দিতে মরিয়া হয়ে রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় আসতে চাইছে। তাই “বিজেপিকে একটি ভোটও নয়” বলে প্রচার শুরু করেছেন সিপিআই(এমএল) লিবারেশন দলের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা রাজ্যের ২৫টি আসনে সরাসরি বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থন করছেন, আর ১২টি আসনে তাঁরা সরাসরি নিজেদের প্রতীকে লড়াই করছেন। বাকি আসনগুলোতে যেসব প্রার্থী বিজেপিকে পরাজিত করতে সক্ষম, তাঁরা সেই সব প্রার্থীকে সমর্থন করছেন। শিলিগুড়িতে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার ওই তথ্য দিয়েছেন। 

নকশালবাড়ি আন্দোলনের ইতিহাসে প্রয়াত নকশাল নেতা চারু মজুমদার একটি উল্লেখযোগ্য নাম। সেই চারুবাবুরই পুত্র অভিজিৎ মজুমদার। তিনি একজন অধ্যাপক এবং সমাজসেবী। কেন তাঁরা বিজেপি হারাও বাংলা বাঁচাও আওয়াজ তুলেছেন? অভিজিৎবাবু বলেন, “বিজেপি আরএসএস-এর পরিচালিত। তারা ধর্মের ভিত্তিতে চলে। হিন্দুত্বের  ধর্মকে ভিত করে বিজেপি রাষ্ট্র গড়তে চায়। এই দল পশ্চিমবঙ্গে শাসন ক্ষমতায় এলে বড়ো বিপর্যয় ঘটবে। তাই বিজেপিকে আটকাতে হবে।”


 
বামফ্রন্ট তৃণমূলকে প্রধান শত্রু এবং বিজেপিকে দ্বিতীয় শত্রু হিসাবে যেভাবে ঘোষণা করেছে, তাতে বামফ্রন্ট বিরাট ঐতিহাসিক ভুলও করেছে বলে মনে করেন অভিজিৎবাবু। তিনি বলেছেন , “বিজেপিকে প্রধান শত্রু হিসাবে ঘোষণা করার প্রয়োজন ছিল। বিজেপি প্রকৃতপক্ষে কোনও গণতন্ত্র মানে না। টাকা দিয়ে ওরা ঘোড়া কেনাবেচা করে। নির্বাচনের নামে কোটি কোটি টাকা ওরা খরচ করে বিজেপি সব কিনতে চায়। ত্রিপুরাতে কি করেছে বিজেপি? সেখানে সপ্তম পে কমিশন চালু করবে বলেছিল, কিন্তু করেনি। মিথ্যা সব কথা বলে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও আজ সব মিথ্যা কথা বলে ভোট নিতে চাইছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা আজ বলছে বিজেপি, কিন্তু ওদের যদি সত্যি ইচ্ছা থাকতো তবে লোকসভায় বিল এনে পাস করাচ্ছে না কেন?” তাই বিজেপিকে যেভাবে হোক আটকাতেই হবে বলে তিনি জানান।

সিপিআই(এমএল) লিবারেশন এবার ভোটে অনেক নতুন প্রজন্মের মুখকে প্রার্থী করেছে। যেমন শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ( তফশিলি উপজাতি) সংরক্ষিত আসনে লিবারেশনের প্রার্থী হয়েছেন চা বাগানের কর্মী ২৬ বছরের সুমন্তি এক্কা। সুমন্তির ঠাকুরদা প্রয়াত বুধুয়া ওরাও নকশালবাড়ি কৃষক আন্দোলনে অংশ নিয়ে জেলে গিয়েছিলেন সত্তরের দশকে। সুমন্তির বাবা সিরিল ওরাও ৭০ বছর বয়স্ক, শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের কর্মী। সুমন্তির বাড়ি খড়িবাড়ি। তিনি শচীন্দ্র চা বাগানের ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। 

অভিজিৎবাবুরা সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাস করে তাঁদের লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপির মতো ফ্যাসিস্ট সাম্প্রদায়িক দল যত শক্তি বৃদ্ধি করছে ততই নতুন প্রজন্মের একটা অংশ স্বেচ্ছায় তাদের আদর্শে নাম লেখাতে শুরু করেছেন বলে তিনি জানান। বলেন, “বিজেপির দৌলতে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ছে, পেট্রোলের দাম বাড়ছে আর এতে গরিব মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠছে। পুঁজিবাদীদের স্বার্থে পুরোপুরি কাজ করে বিজেপি। তাই বিজেপির মতো দল পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে শক্তিবৃদ্ধি করলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ গরিব মানুষের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”

Developed by DXDasia