
ভোটের ঠিক আগে আগেই নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে বিজেপি এবং কংগ্রেস দল
হাতে গোনা আর মাত্র তিন দিন। তারপরই প্রথম দফার ভোট। ভোটের ঠিক আগে আগেই নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে বিজেপি এবং কংগ্রেস দল। ইস্তেহার প্রকাশের কাজ আগেই সেরে রেখেছিল বাম এবং তৃণমূল। বিজেপি এবং কংগ্রেসের ইস্তেহার প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ে কটাক্ষ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
রবিবার ইস্তেহার প্রকাশ করেছে বিজেপি। অমিত শাহের হাত ধরে সঙ্কল্পপত্র সামনে এনেছে বঙ্গ বিজেপি। ক্ষমতায় আসলে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি বিজেপির। মহিলাদের সরকারি ক্ষেত্রে সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ভাতা দেওয়া। এমনই একগুচ্ছ প্রতিশ্রতি দেওয়া হয়েছে বিজেপির সঙ্কল্পপত্রে। সোমবার বাঁকুড়ার কোতলপুরের সভা থেকে বিজেপির সেই সদ্য প্রকাশিত ইস্তেহার নিয়ে কটাক্ষ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা থেকে তিনি বলেন, “মমতাকে টুকলি করে কোনও লাভ নেই। ‘মা কিচেনে’র নাম পালটে ‘অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন'! সবটাই তো দেখে করেছে ওরা। চাকরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিজেপির ভাঁওতা। ভোট শেষ হয়ে গেলেই পালিয়ে যাবে ওরা। কিছু করবে না। বিজেপি আগে বলেছিল ১৫ লক্ষ টাকা দেবে। ১৫ লক্ষ টাকা সকলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পড়বে। এখন ভোটের আগে বলছে চাল-ডাল দেবে। মমতা বলেন, চাল-ডালের দাম কমিয়ে লাভ নেই। গ্যাসের দাম কমাও। আমাদের সরকার চাল বিনামূল্যেই দেয়। সেই চাল ফোটাতে অনেক টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়। তাহলে গৃহস্থের চলবে কী করে? গ্যাসের দাম না কমালে বড় আন্দোলন হবে।”
অন্যদিকে, কংগ্রেসের ইস্তেহার নিয়ে অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন ‘স্যাঁতস্যাঁতে মুড়ি’। বিধান ভবন থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী সোমবার কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের স্লোগান হচ্ছে হাত বাড়ান বাংলা বাঁচান। এবার আর ফুল নয়, আর কোনও ভুল নয়। একই বৃন্তে দুটি ফুল, বিজেপি আর তৃণমূল। যাঁরা পরিবর্তন চান, তাদের বলছি সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের ভোট দিন। আমরাই ভবিষ্যৎ।”
ইস্তাহারে বিধান রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর একটি কোটেশন ব্যবহার করা হয়েছে। অধীরবাবু এদিন বলেন, “আটটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমরা আমাদের ইস্তাহার করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আইনের শাসনের অঙ্গীকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নয়নের অঙ্গীকার, শিল্প সংস্কৃতি রক্ষার অঙ্গীকার, সামাজিক সুরক্ষার অঙ্গীকার, কৃষক উন্নয়নের অঙ্গীকার, জল ও পরিষেবার অঙ্গীকার এবং দান খয়রাতি নয়। ইন্সেন্টিভের রাজনীতি কংগ্রেস করে না। পাইয়ে দেওয়ার চাইতে মানুষের স্থায়ী উন্নয়নই আমাদের লক্ষ, তাই বলে সামাজিক সুরক্ষা থাকবে না সেটা নয়। আমি ২০১৬ সালে যখন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি তখনও বিধানসভার নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হয়েছিল। আজ ঘটনাচক্রে ২০২১-এ আমিই আবার প্রদেশ কংগ্র্রেসের সভাপতি। এই নির্বাচনেও আবার জোট হয়েছে। আমরা বলছি যারা পরিবর্তন চাইছেন, তাঁরা সংযুক্ত মোর্চাকে ভোট দেবেন।”
