গান গেয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষে প্রচার করছেন শিলিগুড়ির টোটোচালক

বাম আমলে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে গান বেঁধেছিলেন

এক দশকেরও বেশি আগে সিঙ্গুরে কৃষি জমি অধিগ্রহণ করে শিল্প কারখানা তৈরির বিরুদ্ধে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছিল। বামেদের বিরুদ্ধে সেই সময় তিনি কৃষকদের পক্ষ নিয়ে নিজেই গান লিখে তাতে সুর দিয়েছিলেন। আর এবারে ভোটের আগে কন্যাশ্রী প্রকল্পের পক্ষে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে গান লিখে তাতে নিজেই সুর দিয়েছেন। শিলিগুড়ির রাস্তায় টোটো চালানোর ফাঁকে নিজের গানে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন সঞ্জীব মজুমদার।
 

শিলিগুড়ি ইস্টার্ন বাইপাস লাগোয়া ঠাকুরনগরে সংগীতশিল্পী এই টোটো চালকের বাড়ি। বেশ কয়েকবছর আগে তিনি থাকতেন কোচবিহার জেলার নিশিগঞ্জ মহকুমার দেওয়ানবস গ্রামে। সেখানে তিনি কৃষিকাজ করতেন। জমিতে ধান রোয়া থেকে শুরু করে ধান কাটা, লাঙল দেওয়া সবই নিজে হাতে করতেন। কিন্তু সংগীতের নেশা তাঁকে ছোটো থেকেই পেয়ে বসে। কার্যত সংগীত নিয়ে কিছু করবেন ভেবে পনেরো বছর আগে কোচবিহার ছেড়ে শিলিগুড়ি শহরে চলে আসা। কষ্টের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করা শুরু করেন। এক সময় পুরসভার বরো অফিসে নাইটগার্ডের কাজ করতেন। রাত জেগে বরো অফিস পাহারা দেওয়া আর দিনের বেলা গানের টিউশন করে কোনক্রমে সংসার চলত। ধ্রুপদী, লোকগীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, বাউল, ভাদু, টুসু – সবেই পারদর্শী সঞ্জীব। এক সময় কলকাতা দূরদর্শনেও তাঁর সংগীত অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছে। বের হয় তাঁর গানের অ্যালবাম নিয়ে সিডি। 

সঞ্জীব মজুমদার 

কিন্তু সঙ্গীত নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে কখনো কখনো অভুক্ত থাকতে হয়েছে তাঁকে। চরম দারিদ্রের মধ্যে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা নিয়ে চরম সঙ্কটে পড়তে হয়েছে। শেষে টোটো চালানোর পেশা বেছে নেন। তবে সঙ্গীতের নেশা ছাড়েননি। টোটো চালানোর ফাঁকেই গলায় গুনগুন করে গানের অনুশীলন চলতে থাকে। নিজে গান লেখেন, সুরও দেন। অর্থের অভাব থাকায় পড়াশোনা বেশি হয়নি, অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ তিনি। গান লিখেছেন একশোর ওপর। বাল্যবিবাহ থেকে শুরু করে পণপ্রথা, ডেঙ্গু সচেতনতা প্রভৃতি সামাজিক বিষয় ছাড়াও কৃষকের সমস্যা, গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি গান লিখে তাতে সুর দিয়েছেন। দশ বছর আগে সিঙ্গুরের কৃষকদের জন্য গান বেঁধে সুর দিলে তা নিয়ে সংবাদ সম্প্রচারিত হয় বিভিন্ন বৈদ্যুতিন মাধ্যমে। ফলে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা দেখা যেতে থাকে। 

এবার ভোটের আগে কন্যাশ্রী এবং রাজ্য সরকারের ইতিবাচক কাজ নিয়ে গান বেঁধে নিজেই নিজের টোটোতে চেপে প্রচার করছেন। একটি গানে তিনি লিখেছেন, “কারোর নাই অজানা / সরকারের ভাবনা / বাল্যবিবাহ বন্ধ কর/ সবার আছে আইন জানা/ সরকারের অতি সুন্দর ভাবনা/ কত সরকার আইল গেল/ এই সরকারের চিন্তাভাবনা / কন্যাশ্রী প্রকল্পের কথা / কেউ তো বলে না / গরিব দুঃখীর লেখাপড়া/ অর্থের অভাবে হইত না / সেই কথা যে ভুলে গেছে / মমতার সরকার ভোলে না।”

গান গেয়ে রাজ্য সরকারের ইতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরছেন সঞ্জীব মজুমদার 

এরকম আর অনেক গান রয়েছে। সঞ্জীব মজুমদার বলেন, “পেটের দায়ে টোটো চালাই বটে। কিন্তু মন পড়ে থাকে সংগীতে। গানই আমার প্রাণ”। তাঁর আরও বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেসব কাজ করেছেন, সেইসব ভালো কাজ অতীতে দেখিনি। তাই স্বেচ্ছায় তাঁর কাজের ওপর কিছু গান লিখে সুর দিয়ে প্রচার করছি। তাতে যদি কিছু মানুষ বুঝতে পারে”।

Developed by DXDasia