পাখিরা এসেছে মূলত ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্য এশিয়া থেকে
করোনার বাজারে নতুন অতিথি। ভিন দেশ থেকে ওরা এসেছে কি কোনো সুখবর নিয়ে? আট বছর পর আবার ঠিক সময়মতো এই হেমন্তে তারা এল। মেঘ সাঁতরে ডানার ঝাপটানিতে তারা এসে পড়েছে কলকাতার অনতিদূরে সাঁতরাগাছি ঝিলে। ওরা পরিযায়ী পাখি। সোনালি মাথা এই গাংচিলের দল এসেছে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্য এশিয়া থেকে।
প্রকৃতিবিজ্ঞানীরা বলছেন সাঁতরাগাছি ঝিলে ওরা নেমেছে গত ১৫ অক্টোবর। কিন্তু খোঁজ পাওয়া গেছে বেশ কিছুটা দিন পর। গতবছর নভেম্বরে রাজস্থানের শম্বর লেকে পাখির মড়কের কথা সবার জানা এভিয়ন বটুলিজমে ১৯,০০০ পাখির বিষক্রিয়া হয়। সাঁতরাগাছির জল এবং পাখিদের আবাস তাই উপগ্রহ ছবির মাধ্যমে নজর রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। দীঘল সরালের পেছন পেছন এবার ছোটো সরাল বা লেসার হুইসলিং টিল আসবে।
আরও পড়ুন: হাওড়ার পুকুরে উত্তর আমেরিকার রংচঙে হাঁস!
গতবছর সাঁতরাগাছিতে প্রায় চার হাজার পাখি এসেছিল। করোনার আতঙ্কে এবার কি হাজার হাজার পরিযায়ী আসবে? চিন্তা ছিল প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের। কিন্তু তাঁদের সমস্ত চিন্তা উড়িয়ে ঠিক সময়মতো প্রথম ঝাঁকটি চলে এসেছে। অনেকেই আশা করছেন, গতবারের চেয়ে বেশিই পরিযায়ী আসবে। রাজ্যের জীব বৈচিত্র্য০ পরিষদ এবার আরও সতর্ক। তারাই সমস্ত খরচ জোগাচ্ছে। ঝিল পরিষ্কার, আদর্শ আবাস তৈরি, পাখি গণনা— সব দায়িত্ব তারাই নিয়েছে। জানুয়ারিতে হবে গণনা। বিরল পাখি এলে খবর যাবে মুম্বইয়ের ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটিতে। করোনাময় পৃথিবীর হেমন্তের অরণ্যে বোধহয় ওরাই পোস্টম্যান।
