উদ্যোগের সূচনা হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর
গত ৫ সেপ্টেম্বর ছিল শিক্ষক দিবস। তার ঠিক তিন দিন আগে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে আদিবাসী সমাজ শিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ও ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের বলাগড় ব্লক কমিটির তরফে নেওয়া হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আদিবাসী সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্য বলাগড়ের কবুড়া পাঁচপাড়া হাই স্কুলে শুরু হয়েছে অলচিকি হরফে পড়াশোনা।
পড়ুয়াদের অলচিকি হরফে পাঠ দিচ্ছেন কমিটির তরফে দুজন ও বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক। বলাগড় এলাকায় বহু উপজাতি মানুষের বাস। তাঁদের অনেকেই মাতৃভাষার ব্যবহার না থাকায়, স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়তেই যাননি। যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে কারণেই এমন উদ্যোগ নেওয়া, জানিয়েছেন কবুড়া পাঁচপাড়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র ঘোষ।

অলচিকি হরফ
এই উদ্যোগের ফলে তফসিলি উপজাতির পড়ুয়াদের পড়াশোনার মান বাড়বে। ব্লকের অন্য স্কুলেও যাতে এই ব্যবস্থা চালু করা যায়, তার ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানিয়েছেন বলাগড়ের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক গৌরব চক্রবর্তী।
সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সাঁওতালি ভাষায় অলচিকি হরফে পড়ার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। তাই কবুড়া পাঁচপাড়া হাই স্কুলের এই উদ্যোগ মাথায় রেখে, আগামী দিনে সব স্কুলে এই ব্যবস্থা চালুর দাবি তোলা হবে সরকারের কাছে।
যাঁরা সাঁওতালি ভাষায় অলচিকি হরফে পড়ার সুযোগ পাননি, সন্তানরা সেই সুযোগ পাচ্ছে বলে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত অভিভাবকরা। প্রসঙ্গত, জেলার পিছিয়ে পড়া সাঁওতাল জনজাতির মাতৃভাষায় গুরুত্ব দিয়ে ২০১০ সালে বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলে অলচিকি হরফে সাঁওতালি ভাষায় পাঠ্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ২০১১ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকেই নারায়ণগড় ব্লকের একতারপুর, নেকুড়সেনী, খটনগর, হলদিয়া, সুরিয়া- এই পাঁচটি প্রাথমিক স্কুলে ওই পাঠ্যক্রমও চালু হয়েছিল। সেই সময় ওই প্রাথমিক স্কুলগুলিতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া আদিবাসী পড়ুয়ারা চতুর্থ শ্রেণি করার পর সমস্যায় পড়ে। অলচিকিতে শিক্ষিত ওই পড়ুয়াদের জন্য ব্লকে একটিও মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল অভিভাবকেরা।
ভালো উদ্যোগকে ভালো কিন্তু দুরদর্শিতা ও সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে কোনও উদ্যোগ মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভালো কথা নয়। আশা করা যায়, এই উদ্যোক্তারা এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভেবে তবেই মাঠে নেমেছেন।