এবারের স্লোগান ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’
ফ্রেব্রুয়ারি মানেই মাতৃভাষার উদযাপন। ফ্রেব্রুয়ারি মানেই গোটা মাস জুড়ে অমর একুশে বইমেলা। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে গেল অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। বিকেল ৩টেয় বাংলাদেশ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন। অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কয়েকটি নতুন বইয়ের গ্রন্থ-উন্মোচন করেন এবং ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩’ প্রদান করেন। এবার ১১টি বিভাগে ১১জনকে বাংলা অ্যাকাডেমির বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশ
বরাবরের মতো এবারও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতবার যেখানে ৬০১টি প্রকাশনা অংশ নিয়েছিল, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬৩৫টি। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন আছে।
এবারের একুশে বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। এবার অংশ নিয়েছে ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠান।
প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। বইমেলায় প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
প্রসঙ্গত, একুশে বইমেলা স্বাধীন বাংলাদেশ-এর ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর অন্যতম। প্রতি বছর পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে এই মেলা বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণে ও বর্ধমান হাউজ ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সাল থেকে অমর একুশে বইমেলা বাংলা একাডেমির মুখোমুখি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনেও মেলার একটি অংশ আয়োজন করা হয়।