রহস্যময় আলুটিলা গুহায় পৌঁছোয় না সূর্যের আলো

ঘন অরণ্যে ঘেরা এই গুহা

এমন এক গুহা, যেখানে দিনের বেলায় সূর্যের আলো পৌঁছোয় না। টর্চ অথবা মশাল ছাড়া ভেতরে ঢুকতেই পারে না কোনো মানুষ। একবার ঢুকলে পড়লে, গুহার অন্য প্রান্তের মুখে পৌঁছনো বেশ পরিশ্রমের কাজ। কখনও মাথা নিচু করে চলতে হবে, কখনও পায় ঠেকবে ঠান্ডা জলের স্রোত। যে কোনো মুহূর্তে পিছলে পড়ার সম্ভাবনা। এমন রহস্যময় গুহার ভিতর দিয়ে চলতে গেলে কষ্ট হয় ঠিকই, কিন্তু গুহার অপর প্রান্তে পৌঁছে গেলে যে আনন্দ পাওয়া যাবে, তার কাছে ওই কষ্টটুকু ম্লান। এরকমই এক গুহা রয়েছে আমাদের পাশের দেশে।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় রয়েছে এমনই প্রাকৃতিক গুহা। খাগড়াছড়ি শহর থেকে মোটামুটি ৭ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। আলুটিলা এই জেলার সবথেকে উঁচু পর্বত। টিলা বলে ডাকা হয় ঠিকই, তা সত্ত্বেও পর্বতের বিশালতা, সৌন্দর্য মুগ্ধ করে যে কোনো মানুষকে। আগে পর্বতটির নাম ছিল আরবারি। এখানে প্রচুর বুনো আলু জন্মায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছিল খাগড়াছড়িতে। তখন স্থানীয় মানুষরা এখানকার বুনো আলু খেয়ে প্রাণ বাঁচাতেন। সেই থেকে পর্বতটির নাম হয়ে গিয়েছে আলুটিলা। খাগড়াছড়ি শহরের প্রায় সবটাই দেখা যায় এই পর্বত থেকে। তবে এই পর্বতের প্রধান আকর্ষণ আলুটিলা গুহা।

খাগড়াছড়ি সদর থেকে আলুটিলা গুহা যাওয়ার পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির নানা অপরূপ দৃশ্য। ঘন অরণ্যে ঘেরা এই গুহা। স্থানীয় লোকেদের কাছে এটি ‘মাতাই হাকড়’ বা ‘দেবতার গুহা’ নামে পরিচিত। গুহায় ঢুকতে গেলে মূল ফটক থেকে টিকিট কেটে নিতে হয়। তারপর খানিকটা পাহাড়ি রাস্তা হাঁটলে তবে গুহার মুখে পৌঁছনো যাবে। ভিতরে ঢোকার আগে সংগ্রহ করে নিতে হবে মশাল কিংবা মাথায় হেডলাইট লাগানো টুপি। এগুলো না থাকলে অবশ্য টর্চ কিংবা মোবাইল ফোনের টর্চ দিয়েও কাজ চালানো যায়। পা পিছলে যায়, এমন কোনো জুতো পরা চলবে না। 

অনেকটা সুড়ঙ্গের মতো এই গুহার ভিতরটা ঘুটঘুট্টি অন্ধকার। তবে, কোনো ক্ষতিকর জীবজন্তুর ভয় এখানে নেই। কিন্তু, সূর্যের আলো পৌঁছতে পারে না বলে রহস্যময় হয়ে থাকে এই গুহা। নিচ দিয়ে একটা ঝরনা বয়ে গিয়েছে, তাই সাবধানে হাঁটতে হয়। ভিতর দিয়ে খানিকটা যাওয়ার পর দেখা যাবে, দু’দিকে দুটো রাস্তা চলে গিয়েছে। তার মধ্যে একটি রাস্তা বন্ধ। পর্যটকরা অনেক সময়ে বন্ধ রাস্তাতেও একবার ঘুরে আসেন। গুহার উচ্চতা অনেক জায়গাতেই খুব কম, তাই মাথা নিচু করে যেতে হয়। সোজা রাস্তাটি ধরে হাঁটলে গুহার অন্য প্রান্তে পৌঁছনো যাবে। গুহার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে মোটামুটি ১৫ মিনিট সময় লাগে। পর্যটকদের কেউ কেউ গুহার ভিতরে মশাল এবং অন্যান্য জিনিস ফেলে নোংরা করে। তা সত্ত্বেও, গুহার মধ্যে ভ্রমণের রোমাঞ্চ এবং চারদিকের অপরূপ প্রকৃতি যে কোনো মানুষকে বাকরুদ্ধ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। 

Developed by DXDasia