কোনও বড়ো মণ্ডপের বাইরে গেট তৈরি হলে সেটাকেই মণ্ডপের শেষ প্রান্ত বলে বিবেচনা করতে হবে
বাংলার দুর্গাপুজো নিয়ে উদ্বেগ ছিল সমস্ত মহলে। সরকারিভাবে সমস্তরকম ব্যবস্থা এবং বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আজ সোমবার ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
এ ব্যাপারে মামলার রায়ে হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাংলার সমস্ত পুজো মণ্ডপ দর্শকশূন্য রাখতে হবে। ছোটো মণ্ডপ হলে তার ৫ মিটারের মধ্যে এবং বড়ো মণ্ডপ হলে তার ১০ মিটারের মধ্যে কোনও দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবে না।
হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মণ্ডপের শেষ প্রান্ত থেকে ফিতে মেপে ওই বলয় তৈরি করতে হবে। কোনও বড়ো মণ্ডপের বাইরে গেট তৈরি হলে সেটাকেই মণ্ডপের শেষ প্রান্ত বলে বিবেচনা করতে হবে। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ সব পুজো মণ্ডপকে কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করতে হবে। দর্শকদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। রায়ের মূল বক্তব্য হল –
• প্রত্যেক দুর্গাপুজো মণ্ডপকে কনটেনমেন্ট অথবা নো এনট্রি জোন হিসেবে গণ্য করা হবে।
• শুধু পুজোর উদ্যোক্তারাই মণ্ডপের ভিতরে যেতে পারবেন। সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
• সাধারণ দর্শনার্থীরা চাইলে ভার্চুয়ালি পুজো দেখতে পারবেন অনলাইনে।
• প্রতিমা দেখতে চাইলে বড়ো পুজোর ক্ষেত্রে ৩২ ফুট (১০ মিটার) এবং ছোটো পুজোর ক্ষেত্রে ১৫ ফুট (৫ মিটার) দূরত্ব বজায় রাখতে হবে মণ্ডপ থেকে।
• আজ তৃতীয়া থেকে এই নিয়ম চালু হল। চলবে দশমী পর্যন্ত।
• মণ্ডপের বাইরে অনেকটা পরিধি জুড়ে বাফার জোন তৈরি করতে হবে। এই নিয়মগুলি সম্পর্কে জনগণের কাছে দ্রুত প্রচার অভিযান শুরু করবে পুলিশ।
• ডিজি এবং পুলিশ কমিশনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন হাইকোর্টে। কীভাবে তাঁরা এই নিয়মগুলি পালন করলেন, তা রিপোর্টে জানাবেন।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৫ নভেম্বর।
