
ময়নাগুড়িতে একদল পরিবেশপ্রেমী যুবক শুরু করেছেন ‘দুয়ারে চারা কর্মসূচি’
করোনার বিধিনিষেধ চলতে থাকায় অনেকেই বাড়ি থেকে ঠিকমতো বের হতে পারছেন না। এই অবস্থায় জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে একদল পরিবেশপ্রেমী যুবক শুরু করেছেন ‘দুয়ারে চারা কর্মসূচি’। বাড়ি বাড়ি তাঁরা খাঁচা সমেত পৌঁছে দিচ্ছেন বিভিন্ন চারা গাছ। গাছগুলোর মধ্যে আছে জাম, কৃষ্ণচূড়া, লটকা, মেহগনি, বকুল, আতর, গামারি-সহ অন্যান্য গাছ। ময়নাগুড়ি পরিবেশ প্রেমী সংগঠন থেকে গত ৪ জুন শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। ৩০ জুনের মধ্যে এভাবে এক হাজার চারা গাছ বিলির কর্মসূচি নেন তাঁরা। সবটাই বিনামূল্যে।

চারা গাছ দেওয়ার সময় তাঁরা বলে দিচ্ছেন, গাছের প্রতি যত্ন নিতে হবে। গাছ বাঁচাতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ময়নাগুড়ি এলাকার যাঁরাই তাঁদের কাছে গাছের চারা চাইছেন, সবাইকেই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সংস্থার সম্পাদক নন্দুকুমার রায় ‘বঙ্গদর্শন’-কে জানিয়েছেন, “বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ছে। তাই গাছ ছাড়া উপায় নেই। চারদিকে সবুজ পরিবেশ তৈরির জন্য আমরা সবসময় প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। গোটা ময়নাগুড়ি ও তার আশপাশে এই দুয়ারে চারা কর্মসূচি বেশ দাগ কাটছে বহু মানুষের মধ্যে।”
বহুদিন ধরেই ওই সংস্থা এবং পরিবেশপ্রেমী নন্দুকুমার রায় এলাকাতে বৃক্ষরোপণের জন্য কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এবার করোনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ চলতে থাকায় অনেক মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। তাই এই দুয়ারে চারা কর্মসূচি গ্রহণ।

শুধু গাছ নয়, বন্যপ্রাণীর সঙ্গেও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন নন্দুকুমার রায়। বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এবং কীটপতঙ্গ পরিবেশের ভারসাম্য বা বাস্তুতন্ত্রের জন্য কতটা জরুরি তারও প্রচার করছেন তিনি। একটি প্রজাপতি থেকে পিঁপড়ে কিংবা টিকটিকি, সাপ, ব্যাঙ পরিবেশের জন্য কত জরুরি তার প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি বন্যপ্রাণী দপ্তর থেকেও মাঝেমধ্যে সাপ উদ্ধার করার জন্য ডাক পান নন্দুবাবু। তিনি জানালেন, “বিগত কয়েকবছর ধরে আমি গোটা উত্তরবঙ্গে ১৬টি কিং কোবরা উদ্ধার করেছি। এছাড়াও উদ্ধার করেছি কয়েকশো অজগর, গোখরো। তবে সব সাপই জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলে রয়েছে ঘন জঙ্গল। জঙ্গল লাগোয়া অনেক জনবসতি ও গ্রামে প্রায়ই বিষাক্ত সাপ বেরিয়ে পড়ে। সেসব সাপ ঘিরে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেক সময় গ্রামে সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুও হয়। সেসব বিপত্তি এড়াতে তাঁর কাছে সাপ উদ্ধারের ডাক পড়ে। বনদপ্তরও তাঁকে প্রায়ই ডেকে নেয়। সাপ উদ্ধার করে তিনি আবার জঙ্গলে ছেড়ে দেন, সেই সঙ্গে গ্রামের মানুষের কাছে সাপ না মারার পরামর্শও দেন।
ছবিঃ প্রতিবেদক
