কলকাতা শহর সবার বিপদে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে দাঁড়াতে জানে
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, “মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও/ এসে দাঁড়াও, ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও/ মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও…”। প্রাণের শহর কলকাতা। একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো এ শহরের ঐতিহ্য। তেমনই এক ছবি ধরা পড়ল উত্তর কলকাতার সিমলা বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবে।
এ শহর জানে সহমর্মিতা, এ শহর সবার বিপদে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে দাঁড়াতে জানে। তার ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে করোনাকালে, বিশেষত লকডাউনে। তাই এবার কলকাতার দুর্গাপুজোর আনন্দের বার্তা পৌঁছে গিয়েছে সুদূর আফগানিস্তানে। সকলের একটাই কথা, শান্তি চাই। আফগানিস্তানের তালিবান রাজত্বের নৃশংসতা থেকে মুক্তির প্রার্থনা করছেন বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যরা। এক হাতে প্ল্যাকার্ড, অন্য হাতে মোমবাতির শিখা।
ক্লাবের খুঁটিপুজোয় ধরা পড়ল সেই শান্তির বার্তা। আফগানিস্তানে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্যই শুধু নয়, যাঁরা তালিবানি শাসন থেকে মুক্ত হতে চাইছেন – এই প্রার্থনা সকল নাগরিকদের জন্যই। আফগানিস্তানে গিয়ে শারীরিকভাবে হয়তো তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু মন তো আছে। তাই দূর থেকে বন্ধু দেশের জন্য প্রার্থনা। মাঠে-ঘাটে কাশফুল ফুটতে শুরু করেছে। আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষায় দিন গুনছে বাঙালি। প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো আসছে। তাই বলে কি দূর দেশের যন্ত্রণার কথা ভুলে যাব? না, বরং এই উৎসব হয়ে উঠবে সকলের। যতটা বাঙালির, ততটাই আফগানিস্তানের।
খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর গলাতেও উঠে এসেছে সংহতির বার্তা। সব ধর্মের সমন্বয়, সব জাতির সমন্বয়, সব ভাষার সমন্বয় – সিমলার বাসিন্দা স্বামী বিবেকানন্দ শিখিয়েছিলেন। সুতরাং সেই অঞ্চলের সাবেকি পুজো কীভাবে ভুলবে অন্য দেশের দুঃখের কথা। আর এই স্বভাবের জন্যই বিশ্ব এক হয়ে মেশে কলকাতা তিলোত্তমায়। দুর্গাপুজো হয়ে ওঠে সম্প্রীতির মিলনোৎসব।