নতুন বছরে আশার আলো দেখাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন

সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলা

২৫ জানুয়ারি সারা দেশ জুড়ে পালিত হল ‘জাতীয় পর্যটন দিবস’। এদিন খতিয়ে দেখা হয়, সারা বছর দেশের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলল পর্যটন শিল্প। তবে কোভিড মহামারির কারণে ২০২০ সালের বেশিরভাগ সময়ই বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। দূরের পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটন শিল্পেও ধস নেমেছিল। 

কাটরা মসজিদ 

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এবং ট্যুরিজম কাউন্সিল জানিয়েছে, ২০১৮ সালে পর্যটনের ফলে ভারতে রোজগার হয়েছে ১৬.৯১ লক্ষ কোটি টাকা। জিডিপির ৯.২ শতাংশ। ৪২.৬৭৩ মিলিয়ন কাজের সুযোগ হয়েছে, মোট কর্মসংস্থানের ৮.১ শতাংশ। সাধারণ পরিস্থিতিতে লক্ষ্যমাত্রা হল, ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক বৃদ্ধির হার থাকবে ৬.৯ শতাংশ। যা ৩২.০৫ লক্ষ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছবে – অর্থাৎ জিডিপির ৯.৯। এখনও পর্যন্ত যেভাবে চলছে, সেই লক্ষ্যমাত্রায় যাওয়া অসম্ভব নয়।

গৌড়ের ফিরোজ মিনার 

সমুদ্র সৈকত 

এবছর জাতীয় পর্যটন দিবসের থিম ছিল ‘দেখো আপনা দেশ’। ২০২০-এর করোনা মহামারির বিধ্বংসী সংক্রমণ দেখা দেয়, যা আজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় এখন বিদেশে ঘুরতে যাওয়ায় উৎসাহ পাচ্ছেন না। দেশের মধ্যেই নানা গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন বেড়ানোর জন্য। ফলে ভারতের পর্যটন শিল্পে গতি আসছে।

রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি  

অনেক আগে থেকেই বাংলার পর্যটকরা সেই নীতি গ্রহণ করেছে, যাকে বলা যেতে পারে ‘দেখো আপনা স্টেট’। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ১৬৯তম বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয় গত বছর ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ। তাতে দারুণ আশার খোঁজ মেলে। দেখা যায় সেবছরে প্রথমবার লাভের মুখ দেখেছে নিগম। পরিসংখ্যান থেকে উঠে আসে, এই সংকটের সময়ে বিশ্বের অন্যান্য জায়গার চেয়ে রাজ্য পর্যটন অনেক বেশি মানুষকে আকর্ষণ করতে পেরেছে। ভ্রমণার্থীরা বেড়াতে গিয়ে থাকার জন্য পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ট্যুরিজম প্রপার্টিগুলি বেছে নিয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০-র আগস্ট থেকে নভেম্বর অবধি কার্ভ গিয়েছে ওপরের দিকে।

টেরাকোটার মন্দির, বিষ্ণুপুর 

রাজ্যের প্রধান উৎসব দুর্গাপুজোর কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অক্টোবরে বৃদ্ধির হার বেশি। পুজোর সময় বাঙালি ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন। ‘প্যাকেজ অ্যান্ড আদার ইনকাম’-এ আগস্টে রোজগার ছিল ৩.৪৮ লাখ, যা অক্টোবরে ৭.৮০ লাখে দাঁড়ায়। অকুপেন্সির তথ্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ অবধি পাওয়া গিয়েছে। বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য। আগস্টে ৬ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ২৭ শতাংশ, অক্টোবরে ৫২ শতাংশ, নভেম্বরে ৫৫ শতাংশ, ডিসেম্বরের ৭ তারিখ পর্যন্ত ৮০.১৪ শতাংশ। নভেম্বরে মুনাফা হয়েছে সব মিলিয়ে ৩.৪৩ লাখ টাকা।

বাতাসিয়া লুপের টয় ট্রেন 

রাজকীয় হিমালয় 

কোভিডের বিরুদ্ধে প্রাথমিক লড়াইয়ের পর ধাপে ধাপে আনলক শুরু হলে হোটেল, গেস্ট হাউজ, রিসর্টগুলি এক এক করে খুলতে থাকে। সরকারি নির্দেশ মেনে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের প্রপার্টিগুলোয়। পর্যটকরা আস্থা ফিরে পেয়েছেন তাতে, পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়। ২০২০-র দ্বিতীয়ার্ধে লাভের মুখ দেখে বাংলার পর্যটন। যেভাবে দ্রুত উন্নতি করছে, ২০২১ সালে তাতে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। 

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল 

গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বেশির ভাগ পর্যটক বেড়াতে গিয়েছেন দিঘা, শান্তিনিকেতন, দার্জিলিংয়ের মতো ডেস্টিনেশনে। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য ট্যুরিজম প্রপার্টিগুলোয় ক্রমশ ভ্রমণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। 

রাজ্য ট্যুরিজম প্রপার্টিগুলির কোনো একটিতে বুকিং করতে এবং বিস্তারিত জানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন। অথবা যোগাযোগ করুন – 
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, 
mdwbtdc@gmail.com, 
dgmrwbtdc@gmail.com

Developed by DXDasia