টাইগার হিলকে প্লাস্টিক মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রাজ্যের

এই পদক্ষেপে খুশি পরিবেশপ্রেমীরা

দার্জিলিং গেছেন, অথচ টাইগার হিল থেকে মোহময়ী কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখার জন্য ব্যাকুল হননি, এ একপ্রকার অসম্ভব ব্যাপার। বৃহত্তর হিমালয়ের এমন মনোমুগ্ধকর প্যানোরোমা, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অদ্বিতীয়। আর দিনেদিনে এটাই যেন কাল হয়ে উঠেছে রাজ্যের শৈলরানির জন্যে। এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন ক্ষেত্রটিতে মরশুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা গড়ে ৮ হাজারের উপরে। টাইগার হিল ভিউ পয়েন্টের আশেপাশে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে পর্যটকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেট, জলের বোতল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দূষিত হচ্ছে দার্জিলিং। এর আগেও যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তা নয়, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়েছে প্রয়াস। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চলেছে অবাধ প্লাস্টিক-দূষণ। তাই এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।

DFO সুরত্ন শেরপা বলেন, ‘সেনচেল অভয়ারণ্য প্রবেশ পথে সবথেকে বেশি ভিড় হয় টাইগার হিলে। ফলে সেখানে কড়া নজরদারি চলছে। টাইগার হিলকে দূষণ মুক্ত করতে আমরা গাড়ি চালক, পর্যটন ব্যবসায়ী, চা দোকানিদের সঙ্গে কথা বলেছি। টাইগার হিলে প্লাস্টিকজাত পণ্য না ব্যবহার করার আবেদন করা হয়েছে।’

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে টাইগার হিলকে প্লাস্টিক মুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র টাইগার হিল নয়, সমগ্র সেনচেল অভয়ারণ্যকেই প্লাস্টিক মুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফলে এবার থেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের সেনচেলের অন্তর্গত কোনও স্থানে বা টাইগার হিলে প্রবেশ করতে হলে প্রত্যেকের ‘প্লাস্টিক মুক্ত’ হওয়া বাধ্যতামূলক। প্রবেশের আগে যাবতীয় প্লাস্টিকজাত দ্রব্য বাইরে রাখতে হবে। তার জন্য ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে ড্রপ বক্স।

রাজ্যের নয়া এই পদক্ষেপে খুশি পরিবেশপ্রেমীরা। দীর্ঘ দিন ধরে টাইগার হিলের বেহাল দশা নিয়ে সরব তাঁরা। তাঁদের মতে এর জন্য পর্যটকদের গা ছাড়া মনোভাবকেই দায়ী, সবার আগে তাঁদের সচেতনতা কাম্য, তাহলেই বদলে যাতে টাইগার হিল ভিউ পয়েন্টের চেহারা। আর সেকারণেই নির্দেশিকা যাতে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়, সেদিকেই জোর দিচ্ছেন তাঁরা। দার্জিলিংয়ের অন্যতম আকর্ষণকে দূষণমুক্ত করতে আগেই একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার ও গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)। ভিউ পয়েন্টের পুরনো ভবনটির সংস্কারের কাজও প্রায় সম্পূর্ণ। এছাড়া যানজট এড়াতে পুলিশের অনুমতি কুপন নিয়ে প্রতিদিন ৩০০টি গাড়িকে টাইগার হিলে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। সিকিমের মতো গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে আগাম কুপন নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার ফলে যানজট অনেকটাই কমেছে বলে মত স্থানীয় ও পর্যটকদের।

সেনচেল অভয়ারণ্য প্রবেশ পথে টাইগার হিলে সবথেকে বেশি ভিড় হওয়ার কারণে সেখানে কড়া নজরদারি চলছে। দার্জিলিং ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের তরফে গাড়ি চালক, পর্যটন ব্যবসায়ী, চা দোকানিদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলা হয়েছে, প্লাস্টিকজাত পণ্য না ব্যবহার করার আবেদন জানিয়ে। দার্জিলিং ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের DFO সুরত্ন শেরপা জানিয়েছেন, একে একে তিন মাইল, সোনাদা, চটকপুর চেক পোস্টেও একই নির্দেশিকা কার্যকর হবে।

কিন্তু এত কিছুর পরও যদি কেউ প্লাস্টিক ব্যবহার করে? এখনই কোনও জরিমানার কথা ভাবা হয়নি। পদযাত্রা, বাইক মিছিল বা অন্যান্য কর্মসূচীর মাধ্যমে এই মুহূর্তে সকলকে শুধু সচেতন করা হচ্ছে, তাতে কাজ না হলে অবশ্য জরিমানার পথেই আসতে হবে বলে জানিয়েছে দার্জিলিং ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশন। 

Developed by DXDasia