
উদ্যোগে রাজ্য বনদপ্তর
ভারি মায়ালীন একটা প্রাণী। গায়ে লালচে-বাদামি রঙের ঘন লোম। মুখ খানিকটা ভল্লুকের মতো। কিন্তু আকারে ছোটো। এই আদুরে প্রাণীটাই এখন আইইউসিএন-এর লাল তালিকাভুক্ত, বিলুপ্তপ্রায়। কয়েক বছর আগে দার্জিলিংয়ের সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান এবং কালিম্পংয়ের নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে রেড পান্ডা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য বনদপ্তর। ৬ বছর পর, এই মে মাসে রেড পান্ডার গণনা শুরু হবে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল। ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বনদপ্তরের কথায়, ডিএনএ টেস্ট হলে প্রাণীটির প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হবে। ঝোপঝাড়ে ঘুরে গণনা করলে কিছু ত্রুটি হতে পারে। একই রেডপান্ডার দু’বার গণনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
পূর্ব হিমালয়ের উঁচু উপত্যকায় এদের বাস। হিমালয়ের পাদদেশ নেপাল ও সিকিম সীমান্তে, দার্জিলিংয়ের সিঙ্গালিলা পর্বতে অবস্থিত সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান; তার পাশাপাশি, কালিম্পং জেলায় রয়েছে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান। বনদপ্তর সূত্রের খবর, ২০১৯ সালে সংশ্লিষ্ট দুটি উদ্যানে রেড পান্ডার গণনা করা হয়েছিল। সেবার গণনায় ৬৬টি রেড পান্ডার হদিশ মিলেছিল। যার মধ্যে ৩১টি সিঙ্গালিলায় এবং ৩৫টি নেওড়াভ্যালিতে ছিল। সংশ্লিষ্ট দুটি উদ্যানে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করলেও বনদপ্তর পক্ষে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্যই এবার রেড পান্ডা গণনা অভিযানে নামবে বনদপ্তর। এজন্য বনদপ্তরের কর্মীদের নিয়ে কিছু টিম তৈরি হচ্ছে। শীঘ্রই শুরু হবে গণনা।
এবারই প্রথম ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে রেড পান্ডা গণনা করা হবে। বনদপ্তরের কথায়, ডিএনএ টেস্ট হলে প্রাণীটির প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হবে। ঝোপঝাড়ে ঘুরে গণনা করলে কিছু ত্রুটি হতে পারে। একই রেডপান্ডার দুইবার গণনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা নেই। প্রসঙ্গত, ১৪ অগাস্ট, ১৯৫৮ সালে হিমালয়ের কোলে প্রতিষ্ঠিত, পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক ওরফে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বিশেষত বিলুপ্তপ্রায় লাল পান্ডাদের জন্য নীরবেই হয়ে উঠেছে আলোর দিশারী। ২০২৪-এ প্রথমবার দার্জিলিং চিড়িয়াখানার রেড পান্ডা প্রজনন এবং পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগটি বিশ্বখ্যাত ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ জুস অ্যান্ড অ্যাকোয়ারিয়াম (WAZA) পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়। দার্জিলিং-এ রেড পান্ডা দেখতে ভিড় করেন রাজ্য-দেশ এমনকী বিদেশের পর্যটকরাও।
