মিতিন মাসি কি এমনই ডানপিটে?

মিতিন মাসি আর পাশের বাড়ির মেয়েটি রইলেন না, হয়ে উঠলেন রূপকথার নায়িকা

সুচিত্রা ভট্টাচার্যের সাড়াজাগানো গোয়েন্দা চরিত্র মিতিন মাসি। বাংলা সাহিত্যের প্রথম জনপ্রিয় মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র এটিই। বইপাড়ায় এখনও বেস্ট সেলারের লিস্টে খুঁজে পাওয়া যাবে মিতিন মাসি সমগ্র। বাংলা চলচ্চিত্রেও সেইভাবে মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র আসেনি। বহু বছর আগে ঋতুপর্ণ ঘোষ বানিয়েছিলেন ‘শুভ মহরৎ’। আগাথা ক্রিস্টির গল্প নিয়েই ছিল সেই ছবি। পুরুষ গোয়েন্দা চরিত্রের ভরা বাজারে যেন ব্রাত্যই থেকে গেছে মিতিন মাসিরা। এবার অরিন্দম শীল রূপোলী পর্দায় আনতে চলেছেন মিতিন মাসিকে। মিতিন মাসি অর্থাৎ প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে দেখা যাবে কোয়েল মল্লিককে। এই ছবি নিয়ে দর্শকদেরও উৎসাহের শেষ নেই।

মিতিন মাসি- যিনি অন্যায় দেখলেই রুখে দাঁড়াতে ভোলেন না। যিনি প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, বেপরোয়া, শ্যেন দৃষ্টি এবং তীক্ষ্ণ। ঘরের কোণে বসে গুমরে গুমরে পচে মরা নয়, প্রতিবাদ করাই তাঁর একমাত্র হাতিয়ার। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ‘মিতিন মাসি’ ছবির প্রথম টিজার। বাঙালি পড়ুয়া এবং সিনেপ্রেমীরা এরকম মিতিন মাসিকে দেখতে হয়তো অভ্যস্থ নয়। কারণ টিজারে দেখা যাচ্ছে, মিতিন মাসির রণংদেহি চেহারা। যেখানে খলনায়কদের ধরে পেটাতেও ছাড়ছেন না তিনি। আর এখানেই কেন জানি না বারবার মনে হচ্ছে, মিতিন মাসি আর পাশের বাড়ির মেয়েটি রইলেন না। হয়ে উঠলেন কোনো এক রূপকথার নায়িকা। সুচিত্রা ভট্টাচার্য বারবার বলেছেন, পৃথিবীর সমস্ত মহিলার মধ্যেই একজন করে মিতিন মাসি আছেন। আর এই কথা তিনি বলেছিলেন মিতিন মাসির ঘরোয়া রূপের জন্যই। যিনি ঘরে এবং বাইরে দুইক্ষেত্রেই সমানভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যিনি ঠান্ডা মেজাজীর যুক্তিবাদী মানুষ। তাঁর সঙ্গে তর্কে জেতা খুব একটা সম্ভব না। আর এই জন্যই প্রতিটা মেয়ে মিতিন মাসি হয়ে উঠতে চায়, যা রূপকথার চেয়েও বাস্তবের কাছাকাছি। বাংলা সাহিত্যে হয়তো এই কারণেই অমর চরিত্র হয়ে রয়েছে মিতিন মাসি।

মিতিন মাসিকে পরিচিত খোলসের বাইরে নিয়ে গিয়েছেন পরিচালক অরিন্দম শীল। সময় পাল্টেছে। চারদিকের যুদ্ধ আর সোশ্যাল মিডিয়া গ্রাস করে ফেলেছে আমাদের জীবন। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই হয়তো মিতিন মাসির এহেন রণংদেহী রূপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে গেছে এই টিজার। প্রশংসা করছেন প্রত্যেকেই। ফেলুদা, ব্যোমকেশ, শবর, কিরীটী, অর্জুন এইসব গোয়েন্দা চরিত্র জায়গা করে নিয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রে। যে যার নিজের মতো সফলও হয়েছে। এবার পাল্লা দিয়ে শুরু হল মিতিন মাসির যাত্রা। দেখা যাক, বক্সঅফিস কী কথা বলে শেষমেশ। পুরুষ গোয়েন্দাদের এই ভিড়ে কেনই বা পিছিয়ে থাকবেন প্রজ্ঞাপারমিতা! কেনই বা তিনি রাস্তায় নেমে দুটো থাপ্পড় মারবেন না! প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

আসলে অরিন্দম শীল চেয়েছেন, মেয়ে মানেই অবলা নয়। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পেরতিবাদ করতে পারে শুধুমাত্র ছেলেরাই। তাই মারপিটও করতে পারে তারা। এই তথাকথিত ধ্যানধারণা থেকে বেরোতে চান পরিচালক। মেয়ে মানেই এটা, মেয়ে মানেই ওটা- এই পরিচিত শব্দগুলোর সময় এখন আর নয়। যেভাবে কিছু বছর আগে দিবাকর ব্যানার্জি হিন্দিতে ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’ নির্মাণ করেছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুতকে দিয়ে। সেখানেও ব্যোমকেশ চেনা ছক থেকে বাইরে বেরিয়ে খলনায়কদের সঙ্গে মারপিট করতে ছাড়েননি। আবার রূপকথার নায়কদের মতো হঠাৎ আকাশেও উড়ে চলেছেন জটিল রহস্য সন্ধানে। চলচ্চিত্রে সবকিছুই সম্ভব। বাংলাই বা পিছিয়ে থাকবে কেন! মিতিন মাসি ওরফে কোয়েল মল্লিকের এই রূপ বাঙালি দর্শক কতটা গ্রহণ করে তা সময় বলবে। তবে এই পুরুষশাসিত সমাজে প্রতিদিন কন্যাভ্রুণ নষ্ট করে দেবার যুগে এই ছবিই হয়ে উঠুক তীব্র প্রতিবাদস্বরূপ। 

‘মিতিন মাসি’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২ অক্টোবর। কোয়েল মল্লিক ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা বিনয় পাঠককে। প্রযোজনা করছে ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন প্রাইভেট লিমিটেড। 

Developed by DXDasia