পলিথিন বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করেন তৌহিদুল

তিনি পলিথিন থেকে মিথেন গ্যাস এবং ছাপার কালিও তৈরি করেন

বাড়িতে ফুলের বাগানে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল গাছগুলো। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওই বাড়ির ছেলেটি আবিষ্কার করে, গাছের শিকড়গুলো পলিথিনে কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে। তখন থেকেই পলিথিন নিয়ে ভাবতে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া সেই ছেলেটি। মনোযোগী হয়ে ওঠে রসায়নে। 

বাংলাদেশের জামালপুর জেলার বেলটিয়া গ্রামের বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম। উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক একরামুজ্জামানের কাছে যেতেন নানা বিষয়ে জানতে। সেই কলেজের ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করতে থাকেন। অবশেষে প্রিয় শিক্ষকের সহায়তায় ২০১১ সালে একদিন পলিথিন থেকে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপি গ্যাস তৈরি করতে সক্ষম হন তৌহিদুল। তারপর থেকেই নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হতে থাকেন। জাতীয় পরিবেশ পদক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে উদ্ভাবকের স্বীকৃতি, মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মেলার স্বীকৃতিও লাভ করেছেন তিনি।

জ্বালানি তেল ছাড়াও তৌহিদুল পলিথিন থেকে মিথেন গ্যাস এবং ছাপার কালিও তৈরি করেন। বিশ্বে এমন উদ্ভাবন নতুন নয়। নানা দেশে ইতিমধ্যেই বহু মানুষ এই কাজে সফল হয়েছেন। তবে তৌহিদুলের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষা কর্মসূচিতে নতুন দিশা এনেছে, সন্দেহ নেই। 

জামালপুর পৌরসভার বর্জ্য শোধনাগারের পাশে একটি ছোট্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করেছেন তৌহিদুল। লক্ষ্য একটাই, পলিথিনের পরিবেশসম্মত পুনর্ব্যবহার। প্ল্যান্টে উৎপাদিত পেট্রোলেই চলে তাঁর নিজের মোটর সাইকেল। ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে বেশ খানিকটা তেল, এলপি গ্যাস এবং ছাপার কালি তৈরি করা হয়েছে প্ল্যান্টে। প্রশাসন আশাবাদী, এই তেলের গুণগত মান খনিজ তেলের মতোই হবে। সারা বাংলাদেশে স্বল্প খরচের এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন তাঁরা।
 

Developed by DXDasia