
আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বক্সা পাহাড়ি অঞ্চলকে ঘিরে
উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার (Alipuduar) জেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল বক্সা (Buxa)। ঐতিহাসিক দিক থেকেও এর অন্যরকম তাৎপর্য রয়েছে। পরাধীন ভারতে একসময় ব্রিটিশ সরকার অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামীকে এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বক্সা ফোর্টে বন্দি করে রাখতো। সেই বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা সেখানকার চিকিৎসা। বেশ কিছু এলাকায় কোনো যানবাহনও প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কারও কোনও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হলে চিকিৎসার উপায় থাকে না।
কখনও মাচা, কখনও কারও কোলেপিঠে বা ঘাড়ে চাপিয়ে অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হত সমতলে। দুর্গম বক্সা থেকে সমতলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার পথেই অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও শোনা গিয়েছে। কিন্তু এবার সেই বেদনাদায়ক চিত্র অনেকটাই বদলে দেওয়ার প্রয়াস শুরু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) চান, দুর্গম ওই এলাকার মানুষের যন্ত্রণা কতটা কমানো যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ভাবনা থেকেই আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বক্সাকে ঘিরে। এর মধ্যে অন্যতম হল পালকি অ্যাম্বুলেন্স (Palanquin Ambulance)।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনটি পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করা হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতায়। স্থানীয় কালচিনির বিডিও প্রশান্ত কুমার বর্মন বঙ্গদর্শনকে জানান, শীঘ্রই আরও ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা শুরু হতে চলেছে বক্সা, চুনাভাটি, লেপচাখা প্রভৃতি দুর্গম পাহাড়ি বস্তিকে ঘিরে। গোটা দেশের মধ্যে এরকম পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা এই প্রথম।

পালকির মধ্যে রয়েছে জরুরি ওষুধ, অক্সিজেন সিলিন্ডার। ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া এই সব পালকি তৈরি করছে। পালকির মধ্যে আলো বাতাস যাতে চলাচল করতে পারে তার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোনো অসুস্থ মানুষকে পালকিতে নিয়ে যাওয়ার সময় যাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ না হয়ে পড়েন, তার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাঁরা পালকি বহন করেন, সেই সব পাহাড়ি মানুষদের প্রশাসনিক প্রয়াসে ট্রেনিংও দেওয়া হচ্ছে। পালকি বাহকদের বেতনের ব্যবস্থাও রয়েছে। আর পালকির মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন বার্তা লিখে দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ মানুষদের পালকিতে চাপিয়ে ২৩০০ বা ২৭০০ ফুট নিচে নামিয়ে সমতল আলিপুরদুয়ার বা সংলগ্ন হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়াই পালকিবাহকদের কাজ।
শীঘ্রই আরও ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা শুরু হতে চলেছে বক্সা, চুনাভাটি, লেপচাখা প্রভৃতি দুর্গম পাহাড়ি বস্তিকে ঘিরে। গোটা দেশের মধ্যে এরকম পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা এই প্রথম।

আবার সমতলের হাসপাতালে সুস্থ হয়ে ওঠা বক্সা নিবাসী পালকিতে করেই আবার পৌঁছে দেওয়ার কাজও করছেন তাঁরা। এই প্রথা শুরু হওয়ায় বেশ খুশি এলাকার বহু বাসিন্দা। তার সঙ্গে বক্সা এলাকায় যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় খুশি স্থানীয় অনেকে। ডুয়ার্সের (Dooars) বীরপাড়া নিবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবী সাজু তালুকদার বলেন, “জেলা শাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা যেভাবে আন্তরিক প্রয়াস নিয়েছেন পালকি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে, তা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। জেলাতে আরও কিছু মানবিক ও সামাজিক কর্মসূচির বাস্তবায়নে প্রশাসন যেভাবে সক্রিয় রয়েছে তা সত্যি উল্লেখ করার মতো।”

