
ভ্রমণ নিয়েই বেঁচে থাকতে চান তিনি
ফিনল্যান্ডের নাগরিক তানভীর অপু। তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে। বিশ্ব ঘুরে বেড়ানো তাঁর নেশা। তারই মধ্যে সময় পেলেই বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। নিজের শিকড়ের তাঁর অমোঘ টান। সারা পৃথিবীর ৬৮টি দেশের ৭১৫টি শহরে তনভীর পা রেখেছেন। প্রায় ১ লাখ কিলোমিটার ঘুরেছেন সড়ক পথে। এভাবেই বিশ্বরেকর্ড করেছেন এই বাঙালি তরুণ।
তানভীর অপুর ছোটোবেলা কেটেছে রাজশাহীতে। জন্ম ১৯৮০ সালে। মা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদে। বাবা ইব্রাহীম আলী দেওয়ান পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। দুই ভাই,এক বোনের মধ্যে তানভীরই বড়ো। বাংলাদেশের নামি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে হকির ওপর পড়াশোনা করেছেন তিনি। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। তারপর আবার রাজশাহীতে ফেরেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক অধ্যয়ন শুরু করেন। স্নাতক পড়তে পড়তেই পাড়ি দেন ফিনল্যান্ডে।
ফিনল্যান্ডে যাওয়ার পরই ভ্রমণের নেশা তাঁকে আছন্ন করতে থাকে। বিশ্বভ্রমণের অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হকের থেকে। ২০০৬ সালে তানভীর পূর্ব ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ার রাজধানী তালিনে পা রাখেন। সেবারই জার্মানি, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, চেক রিপাবলিক এবং আরো কয়েকটি দেশ ঘুরে ফেলেন। তখন জার্মানিতে ফুটল বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। গ্যালারিতে বসে সেই খেলা দেখলেন। তারপর ভারত, হাঙ্গেরি, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, মরক্কো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – এখনো পর্যন্ত ৬৮টি দেশ এবং ৭১৫টি শহর নিজের চোখে দেখে ফেলেছেন। যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে চান তিনি।
তানভীরের অবশ্য কোনো স্থায়ী রোজগার নেই। বিশ্ব ভ্রমণের জন্য কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও তাঁকে অর্থসাহায্য করে না। তানভীর রেস্তোরাঁয়, পানশালায় কাজ করেছেন, এমনকি নিজেও রেস্তোরাঁ খুলে বসেছিলেন। আবার সেটা গুটিয়েও নিয়েছেন। কোনো কাজই দীর্ঘ সময় ধরে করেন না। কিছু অর্থ হাতে এলেই ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়েন। দেশ-বিদেশ ঘোরার সময়ে বিলাসিতা এড়িয়ে চলেন। সস্তা হোটেলে থাকেন, কম দামি খাবার খান। যতটা সম্ভব বেশি হেঁটে পরিবহনের খরচ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
ভ্রমণ নিয়েই বেঁচে থাকতে চান তানভীর। নানা দেশের মানুষ, তাদের বিচিত্র পোশাক-আশাক, খাবার-দাবার, সংস্কৃতি নিজের চোখে দেখতে বড়ো ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসা যাতে আরো মানুষের মনে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব সক্রিয়। সময় পেলে সেমিনার এবং ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। একটি বইও লিখেছেন। নাম, ‘যাত্রা হল শুরু’।
ছবিসূত্র – ফেসবুক
