শুশুনিয়া – বাঁকুড়ার আদিম সৌন্দর্য

প্রাচীন গৌরবের সাক্ষী

কলকাতায় শীত পড়েছে জাঁকিয়ে। শীতের মরসুমে বেড়ানোর সাধ জাগে না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। মন ভালো করা অনেক রকম ট্যুরিস্ট স্পট রয়েছে আমাদের রাজ্যেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিংবা ঐতিহাসিক গরিমা – সবই পাবেন। কয়েকদিন ছুটি নিয়ে চলুন শুশুনিয়া। বাঁকুড়া জেলার একটি পাহাড়। পর্বতারোহী এবং ভ্রমণার্থীদের প্রিয় গন্তব্য। 

প্রাচীন জনবসতির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বাঁকুড়ায়। ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ গড়ে উঠেছিল তাম্র-প্রস্তর সভ্যতা। প্রোটো-অস্ট্রালয়েড ও প্রোটো-দ্রাবিড়ীয় জনগোষ্ঠীর মানুষেরা ছিলেন এই জেলার আদি বাসিন্দা। পরে আর্যরা এসে তাঁদের সঙ্গে মিশে যান। সুদূর অতীতের নিদর্শন আপনি দেখতে পাবেন শুশুনিয়া পাহাড়েও। 

বাঁকুড়া আর পুরুলিয়ার মাঝখানে পূর্বঘাট পর্বতমালার অংশ শুশুনিয়া। বাঁকুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে ছাতনা। তার থেকে আরও ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে শুশুনিয়া পাহাড়। উচ্চতা প্রায় ১২০০ ফুট। প্রকৃতি তার সমস্ত মায়া যেন বিছিয়ে রেখেছে। পুরাতত্ত্ব আর জীবাশ্মের ভাণ্ডার এই পাহাড়। সিংহ, জিরাফ, হায়না এবং আরও নানা প্রাণীর জীবাশ্ম এখানে পাওয়া গিয়েছে। মিলেছে আদি সভ্যতার নানা সামগ্রী। আর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম শিলালিপি। 

খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকের ‘শুশুনিয়া লিপি’ এখন সংরক্ষণ করে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)। গবেষকরা বলেন, এখানে রাজা চন্দ্রবর্মণ তাঁর দুর্গ তৈরি করেছিলেন। তবে সেই দুর্গের কোনো ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুশুনিয়া লিপি অনুসারে, চন্দ্রবর্মণের রাজধানী ছিল পুষ্করণা। যা এখন পখান্না নামে পরিচিত। স্থানীয় লোকেদের বিশ্বাস, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সঙ্গে যুদ্ধে এই রাজা নিহত হন। শুশুনিয়ার আরেক আকর্ষণ নরসিংহ মূর্তি। নরসিংহ আকৃতির পাথর থেকে বেরিয়ে আসে ঝরনার জল। অনেকে বলেন, এই জলের নানা ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে।

শাল, পলাশ, অর্জুন, মহুয়া গাছের জঙ্গলে ছড়িয়ে আছে একের পর এক আদিবাসী গ্রাম। বিভিন্ন রকম ঔষধি গাছও পাওয়া যায়। এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে গন্ধেশ্বরী নদী। গাছে গাছে নানা রকমের পাখি। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, শুশুনিয়া পাহাড়ে বাস করেন মহাদেব শিব। দূরে চোখে পরে পাঞ্চেত পাহাড়। শুশুনিয়ার পাথর খোদাই শিল্প খুবই বিখ্যাত। 

কীভাবে যাবেন

রেলপথে যেতে চাইলে হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে নামতে হবে ছাতনা স্টেশনে। তারপর বাস কিংবা অটো ধরে শুশুনিয়া যাবেন। সময় লাগবে সাড়ে ৩ ঘণ্টার মতো। সড়কপথে রওনা দিলে কলকাতা থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরতে হবে। পাঞ্জাবি মোড়ে ঘুরতে হবে বাম দিকে। মেজিয়া সেতু পেরিয়ে পৌঁছবেন শুশুনিয়া পাহাড়। ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। 

কোথায় থাকবেন

শুশুনিয়া পাহাড়ের কাছেই বিষ্ণুপুরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব বিষ্ণুপুর ট্যুরিজম প্রপার্টি (পূর্বতন বিষ্ণুপুর ট্যুরিস্ট লজ)। ঘন সবুজের মাঝখানে থাকা-খাওয়ার দারুণ ব্যবস্থা। শুশুনিয়া থেকে বিষ্ণুপুরের দূরত্ব মোটামুটি ৫০ কিলোমিটার। বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন – 
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Website: https://www.wbtdcl.com/
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com

Developed by DXDasia