দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাঘ্র প্রকল্পের তকমা পেতে চলেছে সুন্দরবন

সম্প্রসারিত হচ্ছে বাঘের বন, জুড়ছে তিনটি রেঞ্জ

খনও পর্যন্ত দেশের বৃহত্তম ব্যাঘ্র প্রকল্প (Tiger Reserve) হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে অন্ধ্রপ্রদেশের নাগার্জুন সাগর–শ্রীশৈলম টাইগার রিজ়ার্ভ (৩,৭২৭ বর্গ কিমি)। এবার মহারাষ্ট্রের মেলঘাট, ওডিশার সিমলিপাল, অসমের মানস আর ছত্তিসগড়ের ইন্দ্রাবতী ব্যাঘ্র প্রকল্পকে পিছনে ফেলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাঘ্র প্রকল্পের তকমা পেতে চলেছে সুন্দরবন।

এমন অনেক আইনি সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জায়গা রয়েছে, যা শুধুমাত্র টাইগার রিজ়ার্ভ এলাকাতেই সম্ভব। লোকালয়ে বাঘ আসার ঘটনাও এ বার কমবে। সুন্দরবনের সম্প্রসারণে ভোল পাল্টাতে পারে স্থানীয় অর্থনীতিরও।

এ পর্যন্ত সুন্দরবনের বাদাবনে বাঘের আবাস ছিল ২,৫৮৫ বর্গ কিলোমিটার। এ বার সেটাই বেড়ে হতে চলেছে ৩,৬২৯ বর্গ কিমি। সম্প্রতি ন্যাশনাল বোর্ড অফ ওয়াইল্ডলাইফ-এর বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে পাঠানো সুন্দরবন টাইগার রিজ়ার্ভের এলাকা সম্প্রসারণের প্রস্তাবটি সরকারি ভাবে সিলমোহর পেয়েছে। প্রসঙ্গত, দেশের যে কোনও সংরক্ষিত অরণ্যের পরিধি পাল্টাতে গেলে ন্যাশনাল বোর্ড অফ ওয়াইল্ডলাইফ–এর ছাড়পত্র প্রয়োজন। ২০১৪ নাগাদ জমা পড়েছিল প্রথম প্রস্তাব। তার প্রায় দশ বছরের মাথায় রাজ্য সরকার এবং জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (এনটিসিএ) সবুজ সঙ্কেত দেয় সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প সম্প্রসারণে। এতদিনে মিলল কেন্দ্রের সম্মতি।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘বাফার এরিয়া’ হিসেবে সুন্দরবন টাইগার রিজ়ার্ভে জুড়তে চলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগের হাতে থাকা ১,০৪৪ বর্গ কিমির নতুন তিনটি রেঞ্জ — রামগঙ্গা, রায়দিঘি ও মাতলা। এখন হাতে রয়েছে চারটি রেঞ্জ — জাতীয় উদ্যান (পূর্ব), জাতীয় উদ্যান (পশ্চিম), সজনেখালি এবং বসিরহাট। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোর হোক বা বাফার, যখনই বাঘের জঙ্গলে ঘেরা ওই তিনটি রেঞ্জ সরাসরি ‘ক্রিটিক্যাল টাইগার হ্যাবিট্যাট’ এলাকার মধ্যে ঢুকবে, সেখানে বাঘ ও অন্য পশুপাখি সংরক্ষণের কাজে আমূল বদল আসবে। এমন অনেক আইনি সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জায়গা রয়েছে, যা শুধুমাত্র টাইগার রিজ়ার্ভ এলাকাতেই সম্ভব। লোকালয়ে বাঘ আসার ঘটনাও এ বার কমবে। সুন্দরবনের সম্প্রসারণে ভোল পাল্টাতে পারে স্থানীয় অর্থনীতিরও।

জানা যাচ্ছে, টাইগার রিজ়ার্ভ এলাকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে রামগঙ্গা, রায়দিঘি ও মাতলা রেঞ্জের বনকর্মীরা এ বার বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন। সেখানে তাঁরা শুধু বাঘ সংরক্ষণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ব্যবহার শিখবেন এমন নয়। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন–সহ টাইগার রিজ়ার্ভ এলাকায় কার্যকর বাকি আইন এবং তার ব্যবহারও শেখানো হবে সবাইকে। দেশের বাকি টাইগার রিজ়ার্ভের কর্মীদের মতো তাঁরাও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য বিশেষ ভাতা (রিস্ক অ্যালাওয়েন্স) পাবেন। বর্ধিত এলাকার জন্য কেন্দ্রের আর্থিক অনুমোদনও বেশি পাবে সুন্দরবন। এই পরিবর্তন বনকর্মীদের মনোবল ও উৎসাহ বাড়াবে — মনে করছেন বনকর্তারা।
 

Developed by DXDasia