ঝাড়গ্রামে উপেক্ষিত বড়ো পাহাড়কে পর্যটনে জুড়তে চায় প্রশাসন

অবিভক্ত মেদিনীপুরের সবথেকে উঁচু পাহাড় এটিই

অবিভক্ত মেদিনীপুর, অর্থাৎ আজকের পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম। যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় এই অবিভক্ত মেদিনীপুরের সর্বোচ্চ পাহাড় কোনটি? হয়তো অনেকের কাছেই এই উত্তর অজানা। ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় রয়েছে এই পাহাড়টি। বড়ো পাহাড় (Baro Pahar Jhargram), যার উচ্চতা ৩৭০ মিটার। এমনকি কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখাতেও এই পাহাড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে এই বড়ো পাহাড়ের পাদদেশে মিলেছিল নব্যপ্রস্তর যুগের তীরের ফলা, হাত কুঠার ও তুরপুন। যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুরাতাত্ত্বিক সংগ্রহশালায় রয়েছে।

ঝাড়গ্রামের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি জায়গা কাঁকড়াঝোর, সেখানে পর্যটকরা গেলেও বড়ো পাহাড়ের নাম শোনেননি অনেকেই, এমনকি চিহ্নিত করতেও সমস্যা হয়। স্থানীয়রা বলেন, ঝাড়গ্রামে সামগ্রিক পর্যটনের প্রসার বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু আজও উপেক্ষিত বড়ো পাহাড়। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে সবুজে ঘেরা এই বড়ো পাহাড়কে পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে দিতে চায় বেলপাহাড়ি ব্লক প্রশাসন। শোনা যায়, এই পাহাড় নাকি নব্য প্রস্তর যুগের।

বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোর ঢোকার আগেই সাতবাঁকি গ্রাম থেকে উঁচু পাহাড়টি দেখা যায়। আমলাশোল যাওয়ার রাস্তায় আরও স্পষ্ট ভাবে দেখা মিলবে এই পাহাড়ের। পাহাড়টির বিস্তার আমলাশোল থেকে আমঝরনা গ্রাম পর্যন্ত। দুই গ্রামের দক্ষিণে রয়েছে পাহাড়টি। পায়ে হেঁটে প্রাকৃতিক ট্রেকিং রুটও রয়েছে। চড়াই পেরিয়ে অপরপ্রান্তে উতরাইয়ে রয়েছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মাকুলি জঙ্গল ও লকাইসিনি পাহাড়। স্থানীয়রা বড়ো পাহাড়ের নাম দিয়েছেন সবুজ উপত্যকা।

বেলপাহাড়ি ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন-এর মুখপাত্র বিধান দেবনাথ একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ঝাড়গ্রাম জেলার সবচেয়ে সুন্দরতম নিসর্গ রয়েছে বড়ো পাহাড়ে। এখন কিছু আগ্রহী পর্যটককে সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বড়ো পাহাড়কে প্রচারে নিয়ে আসা প্রয়োজন। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে এই পাহাড়ের পাদদেশে মিলেছিল নব্যপ্রস্তর যুগের তীরের ফলা, হাত কুঠার ও তুরপুন। যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুরাতাত্ত্বিক সংগ্রহশালায় রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে কাঁকড়াঝোর, আমলাশোল ও আমঝরনা গ্রামে মোট ১৪টি হোম-স্টে হয়েছে।
 

Developed by DXDasia