
ডুয়ার্সের বুকে অন্যরকম এক ট্যুরিস্ট স্পট
পাহাড়ের উপরে ঘর তাই নাম রাখা হয়েছে ‘টিলাবাড়ি’। ইংরেজদের কাছে দার্জিলিং ছিল অবসর সময় কাটানোর জায়গা। তারা নিজের মতো করে একসময় সাজিয়েছিল এই শহরকে। ঠান্ডা পরিবেশ, বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা, জঙ্গল ঘেরা পাহাড়ি পথ, চুপচাপ শান্তির বাতাবরণ চারপাশে। টিলাবাড়ি জায়গাটির নামকরণ হয়েছে এর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী। একটা ছোট পাহাড়ের উপর মানুষ ছোট ছোট ঘর তৈরি করে বসবাস করত। আর সেই ঘরের জানালা দিয়েই দেখা যেত বিস্তৃত পাহাড়শ্রেণী। সাহেবদের এই দৃশ্য মন কাড়ল। তারাও এই জায়গায় কটেজ তৈরি করল। নামকরণ করা হল টিলাবাড়ি।
ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত টিলাবাড়ি মেটেই থানার অধীনে। লোকমুখে খুব একটা পরিচিত স্থল নয়। কিন্তু যারা উত্তরবঙ্গ সফরটিকে একটু অন্যভাবে ঘুরে দেখতে চান তারা মাঝে মাঝেই ভিড় জমান এখানে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন টিলাবাড়িতে একটি পর্যটক কমপ্লেক্সও তৈরি করেছে। ছোট ছোট দশটির মতো কটেজ আছে। প্রতিটি কটেজে দুজন করে থাকার ব্যবস্থা। আটবছরের চেয়ে বড় বাচ্চার ক্ষেত্রে অধিক ২০ টাকা করে দিতে হবে। আধুনিক সুযোগসুবিধায় সজ্জিত করা হয়েছে কটেজগুলিকে।
আরও পড়ুন
ছুটিতে ঘুরে আসুন সামসিং
ইকো পর্যটনও টিলবাড়ির একটি অংশ। পায়ে হেঁটে এই জায়গাটি উপভোগ করা যায় বেশ। পাহাড়ি পথে শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ জীবনে আনে আনন্দ। এছাড়া জিপ ভাড়া করে কাছেপিঠে কয়েকটি জায়গাও ঘুরে দেখতে পারেন। গরুমারা ফরেস্ট এখান থেকে জিপ সাফারি করে যেতে পারেন। এছাড়া তিন বিঘার করিডোর, ঝালানং, বিন্দু, সামসিং এবং রকি দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন। ভ্রমণকারীদের এখানকার প্রকৃতি ও জীবজন্তু, পাখি, প্রজাপতিদের সম্পর্কে জানানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে মিউজিয়াম। সেখানে রাখা হয়েছে বিরল প্রজাতির পাখি ও প্রজাপতির সংগ্রহ।
কীভাবে যাবেন –
কলকাতা থেকে আসা পর্যটকরা কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে মাল স্টেশনে নামবেন। সেখান থেকে টিলাবাড়ির দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। একটা গাড়ি ভাড়া করে চলুন টিলাবাড়ির উদ্দেশ্যে। গাড়ি পিছু খরচ হবে ৫০০ টাকা। যদি পর্যটকরা তিস্তা এক্সপ্রেস, তোর্সা এক্সপ্রেস বা কামরূপ এক্সপ্রেসে যান তাহলে নামতে হবে ময়নাগুড়িতে। এখান থেকে সড়কপথে পৌঁছোতে হবে টিলাবাড়ি। দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। যাঁরা জলদাপাড়া ও গরুমারা এই দুটি জঙ্গল ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন তাঁদের জন্য টিলাবাড়ি একটি সুন্দর ভ্রমণস্থল। সরকারি কটেজগুলিতে থাকতে চাইলে, অনলাইনে আগে থেকে বুকিং করতে হয়।
