প্রায় ২,৫০০ ফুট উচ্চতায় এলে দেখা মিলবে অপূর্ব সুন্দর উপত্যকার
দুদিনের জন্য মানসিক শান্তি খুঁজতে চান? পাহাড় ডাকছে? তাহলে চলুন বেড়িয়ে পড়ি সামসিং-র উদ্দেশ্যে।
ডুয়ার্স মানেই বড় বড় পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি নদী আর বনাঞ্চল। ফুল আর পাখির কাকলি, চোখ জুড়ানো নৈসর্গিক শোভা আর সীমাহীন নির্জনতা। বাংলা ভুটান সীমান্তে এমনই এক অল্প পরিচিত জনপদ সামসিং। চা ও কমলালেবু চাষ করাই এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। সামসিং থেকে দেড় কিমি দূরে অবস্থিত মূর্তি নদী। প্রায় ২,৫০০ ফুট উচ্চতায় এলে দেখা মিলবে অপূর্ব সুন্দর উপত্যকার। পাইনের বদলে শাল, শিমুলের বিশাল বৃক্ষরাজির দখলে থাকা সামসিং-এ প্রচুর কমলালেবু গাছ আর নানা পাখির দেখা মেলে। সামসিং-এ দেখতে পাবেন কমলালেবুর বাগান। শীতে এখানে একটি বিশেষ কমলালেবুর ফেস্টিভ্যাল হয়।
আরও পড়ুন
রুমটেক মনাস্ট্রি ও লামাদের মুখোশ নৃত্য
কলকাতা থেকে সামসিং-এর দূরত্ব ৬৩৮ কিমি। কিন্তু শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৮১ কিমি দূরে। চালসা পার করে পথ গিয়েছে চা বাগানের ভিতর দিয়ে। ডাইনে বাঁয়ে যতদূর চোখ যায় সবুজ চা-বাগান। মূর্তি নদীর কোলে পাহাড় পাইন শাল সেগুনের বন দিয়ে ঢাকা বন্য গ্রাম। যে-কোনও উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে করে নামতে হবে মাল জংশনে।
কীভাবে যাবেন – শিলিগুড়ি মিত্তাল বাসস্ট্যান্ড থেকে সামসিং যাওয়ার জন্য বাস ছাড়ে। তবে সারাদিনে মাত্র দুটি বাস যায়। তাছাড়া যে-কোনও বাসে করে চালসা চলে যান। সেখান থেকে শেয়ার জিপে বা গাড়ি রিজার্ভ করে চলে যান সামসিং। চালসা থেকে সামসিং-র দূরত্ব ১৮ কিমি। কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসও যায় নিউ মাল জংশনে। সেখান থেকে মেটেলি হয়ে সামসিং ৩০ কিলোমিটার।
কোথায় থাকবেন: সামসিং-এ থাকার জন্য রয়েছে সামসিং ফরেস্ট রেস্ট হাউস (৯৪৩৪৩৭৬৩৮৭) ভাড়া ৯০০-১,৫০০ টাকা। যোগাযোগ করুন: www.wbfdc.com প্রাইভেট হোটেলও আছে। অনেক বেসরকারি লজও রয়েছে। তৃষ্ণা লজ (৯৮৩০২-৫২৮৪৩) ভাড়া ৮০০- ১,০০০ টাকা। টেম্পলা ইন (৯৬৭৪৯০০১০১) ভাড়া ১৫০০-২০০০ টাকা। যোগাযোগ করুন: টেম্পলা ইন (৯৬৭৪৯০০১০১/9674900101), তৃষ্ণা লজ (৯৮৩০২৫২৮৪৩/9830252843)