
সত্যজিৎ রায় নির্মিত কলকাতা-ত্রয়ীর প্রথম ছবি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’
গত ২ মে সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) ১০১তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে বিশ্ব-চলচ্চিত্র। তাঁকে সম্মান জানাতে ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে (75th Cannes Film Festival) রাখা হচ্ছে ‘ইন্ডিয়া অ্যাস কান্ট্রি অফ অনার’ (India as Country of Honor) নামক একটি বিশেষ বিভাগ। যেখানে প্রদর্শিত হবে সত্যজিৎ রায় নির্মিত কলকাতা-ত্রয়ীর প্রথম ছবি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ (১৯৭০)।
কান চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, এনএফডিসি (NFDC) অর্থাৎ ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অফ ইন্ডিয়ার উপস্থাপনায় ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ (The Advisory) ন্যাশনাল ফিল্ম হেরিটেজ মিশনের অধীনে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প। ৩৫এমএম ক্যামেরার নেগেটিভ ARRISCAN XT-র ফোর কে-তে স্ক্যান করা হয়েছে এই ছবি। যদিও সিনেমাটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রের বিখ্যাত একটি দৃশ্য
১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়েছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sunil Ganguly) উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় নির্মিত ছবি ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, জয়শ্রী রায়, কৃষ্ণা বসু, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, মিস শেফালী। ষাটের উত্তাল সময়ের সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে তৈরি এই ছবি আজও দর্শককে গভীরে নিয়ে যায়। বর্তমান রাজনৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সামনে আজও এসে দাঁড়ায় ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’। বেকারত্ব, দারিদ্র, অবক্ষয়- অদ্ভুত অসহনীয় পরিস্থিতি ধরা পড়েছিল সত্যজিৎ রায়ের ক্যামেরায়। সিদ্ধার্থের (ধৃতিমানের চরিত্র) টিকে থাকার লড়াই, চাকরি খোঁজার সংগ্রাম, মানসিক টানাপড়েন, ওঠাপড়া পাঁচ দশক পরেও প্রাসঙ্গিক থেকে যায়।

‘প্রতিদ্বন্দ্বী’-র আরেকটি দৃশ্য
কান চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্যে দিয়েই সত্যজিৎ রায় হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বনন্দিত। তাঁর প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালি’ (Pather Panchali) ১৯৫৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত হয় এবং সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারও পায়। গোটা বিশ্ব তারপর থেকে সত্যজিৎ রায়কে মাথায় করে রেখেছে। এরপর একাধিকবার কানে মনোনীত হয়েছে সত্যজিতের ছবি। ১৯৫৮ সালে ‘পরশ পাথর’ (Parash Pathar), ১৯৬২ সালে ‘দেবী’ (Devi), ১৯৮৪ সালে ‘ঘরে বাইরে’ (Ghare Baire), ১৯৮৯ সালে ‘গণশত্রু’ (Ganashatru) মনোনীত হয় প্রতিযোগিতা এবং বিশেষ প্রদর্শনী বিভাগে। সত্যজিৎ রায়ের প্রয়াণের পর ১৯৯২ সালে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে কানে দ্বিতীয়বার প্রদর্শিত হয় ‘পথের পাঁচালি’। কানের ক্লাসিক বিভাগে এরপর ২০০৫ সালে তৃতীয়বারের জন্য দেখানো হয় ‘পথের পাঁচালি’, এছাড়াও ২০১৩ সালে ‘চারুলতা’ (Charulata) দেখানো হয় ওই একই বিভাগে। ২০২২ সালে ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ক্লাসিক বিভাগে। সেই সঙ্গে ভারতকে দেওয়া হচ্ছে ‘কান্ট্রি অফ অনার’ সম্মান।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্যে দিয়েই সত্যজিৎ রায় হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বনন্দিত। তাঁর প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালি’ ১৯৫৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত হয় এবং সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারও পায়। গোটা বিশ্ব তারপর থেকে সত্যজিৎ রায়কে মাথায় করে রেখেছে। এরপর একাধিকবার কানে মনোনীত হয়েছে সত্যজিতের ছবি।

‘পথের পাঁচালি’ এবং ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’
ফটো-নেগেটিভ ফ্ল্যাশব্যাকের মতো কৌশল নিয়ে নিরীক্ষার জন্য কালজয়ী হয়ে আছে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’। মুম্বইয়ের প্রাইম ফোকাস টেকনোলজির সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’-র প্রযোজক প্রিয়া ফিল্মসের পক্ষে নেপাল দত্ত ও অসীম দত্ত, চিত্রগ্রাহক সৌমেন্দু রায় ও পূর্ণেন্দু বসু, সম্পাদক দুলাল দত্ত, শিল্প নির্দেশক বংশী চন্দ্রগুপ্ত, শব্দ করেছিলেন জেডি ইরানি ও দুর্গাদাস মিত্র, সংগীত পরিচালক সত্যজিৎ রায়। উল্লেখ্য, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছাড়াও হলিউড ক্লাসিক ‘সিঙ্গিং ইন দ্য রেন’ (Singin’ in the Rain) ছবিটিও ফোর কে রেস্টোরেশন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জঁ উস্তাশের ‘দ্য মাদার অ্যান্ড দ্য হোর’ (The Mother and the Whore), জিন কেলি এবং স্ট্যানলি ডোনেনের ‘সিঙ্গিং ইন দ্য রেইন’ (Singin’ in the Rain), অরসন ওয়েলসের ‘দ্য ট্রায়াল’ (The Trial) এবং অরবিন্দ গোবিন্দনের ‘থাম্প’ (Thamp)-এর মতো একাধিক কালজয়ী ছবির রেস্টোরেশন ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে এই উৎসবে।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত

