বাংলার রসগোল্লা এবং খুদে নবীন ময়রার গপ্প

‘রসগোল্লা’ সিনেমায় উঠে আসবে নবীনচন্দ্র এবং ক্ষিরোদমণির প্রেম কাহিনি

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ এবং বিশ শতকের প্রথম দিকে বাংলা সংস্কৃতির প্রতীক বলা হয় বিখ্যাত মিষ্টি ব্যবসায়ী নবীনচন্দ্র দাশকে। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন এই বাঙালি। বাংলার সংস্কৃতি এবং সমাজে নবীনচন্দ্র দাশের অবদান রসগোল্লা বা রাজগোল্লার জন্য। সেযুগে যাকে বলা হত বাগবাজারের নবীন ময়রা কিংবা রসগোল্লার কলম্বাস। তাঁকে নিয়েই এবার আস্ত একটি চলচ্চিত্র।

রসগোল্লা আদতে কার, সে নিয়ে কিছু মাস আগেই লড়াই হয়ে গেল ভারতের দুই রাজ্যের মধ্যে। এ লড়াই যে সে লড়াই নয়। অবশেষে দীর্ঘ আড়াই বছরের লড়াইয়ের পর উড়িষ্যাকে হারিয়ে এই নরম তুলতুলে রসগোল্লার জিআই রেজিস্ট্রেশন আদায় করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে রসগোল্লা পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব সৃষ্টি, তা কোনও ভাবেই উড়িষ্যার নয়।

ঘরের মিষ্টি ঘরেই ফিরে এসেছে। আর বাঙালির সেই প্রিয় মিষ্টিকে নিয়েই তরুণ পরিচালক পাভেল উইন্ডোজ ব্যানারের হয়ে বানিয়ে ফেললেন ‘রসগোল্লা’ সিনেমা। প্রধান চরিত্রে শহরের দুই নবীন অভিনেতা উজান এবং অবন্তিকা। রসগোল্লার সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক আজকের নয়। প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনো। অনেকদিন আগে থেকেই পরিচালক পাভেল রসগোল্লার সঙ্গে বাঙালির সুখ দুঃখের গল্পগাঁথা নিয়ে স্ক্রিপ্ট লিখতে শুরু করেছিলেন। এই বছরের শেষেই রসগোল্লার রসে ভাসবেন বাঙালি দর্শক।

ছবির ট্যাগলাইনে বলা হয়েছে “একটি মিষ্টি গল্প”। রসগোল্লার আবিষ্কারক নবীনচন্দ্র দাশের জীবন এবং তাঁর কাজ নিয়ে মূল গল্প এই ছবির। তিনি যে শুধুই একজন ব্যবসায়ী ছিলেন না, সংসারী এবং প্রেমিক মানুষও ছিলেন, সেই কাহিনিও দর্শক জানতে পারবেন। স্ত্রী ক্ষিরোদমণির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে বানিয়ে ফেললেন রসগোল্লা। আর তারপরেই সেই মিষ্টির ভালোবাসায় মজে গেলেন নবীনের স্ত্রী। প্রেম, সংসার, স্ট্রাগেল, ব্যবসা সবকিছুই এই চলচ্চিত্রে ধরা থাকবে। 

রসগোল্লা আমাদের প্রেম। সেই প্রেম যখন বাংলা সিনেমার হাত ধরে নতুনভাবে উঠে আসে তখন কোনোদিকে না তাকিয়ে তাকে সাদরে গ্রহণ করতে হয়। বছরের শেষে বাঙালির শ্রেষ্ঠ মিষ্টি এবার আপনার পাতে। চেখে দেখুন…

Developed by DXDasia