ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিল রাজশাহী জেলা প্রশাসন

ঋত্বিক ঘটক জীবনের শুরুর সময়টা কাটিয়েছেন পৈতৃক বাড়ি রাজশাহীতেই

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের রাজশাহী জেলা প্রশাসন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঋত্বিক ঘটক জীবনের শুরুর সময়টা কাটিয়েছেন পৈতৃক বাড়ি রাজশাহীতেই। এই বাড়িতে থাকার সময় ঘটক রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে পড়েছেন। রাজশাহী কলেজ ও মিঞাপাড়ার সাধারণ গ্রন্থাগার মাঠে প্রখ্যাত সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে নাট্যচর্চা করেছেন। ওই সময় ‘অভিধারা’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনাও করেছেন ঋত্বিক। তাঁকে ঘিরেই তখন রাজশাহীতে সাহিত্য ও নাট্য আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও এই বাড়িতে থেকেছেন ঋত্বিক ঘটকের ভাইঝি বরেণ্য কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী। এই বাড়ির ৩৪ শতাংশ জমি ১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকার রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজকে ইজারা দেয়।

রাজশাহীর পৈতৃক বাড়ি। ছবিঃ সংগৃহীত।

গত ২৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা গত বুধবার ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি (বর্তমানে হোমিওপ্যাথিক কলেজ) পরিদর্শন করেন। তাঁরা ঋত্বিক ঘটকের পরিবারের ব্যবহৃত বাড়ির অক্ষত অংশ এবং একটি কুয়ো চিহ্নিত করেন। এর আগে সাইকেল গ্যারেজ তৈরির জন্য ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে ফেলেছিল রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা বাংলাদেশ-সহ ভারতবর্ষেও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সম্মিলিত ব্যানারে রাজশাহীতে প্রতিবাদের ডাক দেয় ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি, রাজশাহী ফিল্ম সোসাইটি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ এবং বরেন্দ্র ফিল্ম সোসাইটি এমনকি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবাদলিপি পাঠান ১২ চলচ্চিত্র নির্মাতা। অবশেষে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের এই কাজে এগিয়ে আসা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।


 

Developed by DXDasia