রামকৃষ্ণ-সারদা অনুরাগীদের তীর্থ কামারপুকুর-জয়রামবাটি

একদিনের মধ্যেই এই দুটি জায়গায় ঘুরে কলকাতা ফিরে আসা যায়

সহজ-সরল ভাষায় আধ্যাত্মিকতার গূঢ কথাগুলি আম-মানুষের কাছে তুলে ধরতেন রামকৃষ্ণ পরমহংস। উনিশ শতকের বাংলায় তিনি যে আলোড়ন তুলেছিলেন, সারা বিশ্বে তা ছড়িয়ে দেন তাঁর প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ। রামকৃষ্ণের জীবন ও সাধনায় তাঁর সহধর্মিনী সারদামণি দেবী যোগ্য সঙ্গত করেছেন। ভক্তরা মনে করেন, রামকৃষ্ণ স্বয়ং বিষ্ণুর অবতার, স্বামী বিবেকানন্দ শিবের প্রতিমূর্তি আর সারদাদেবী হলেন আদ্যাশক্তি মহামায়া। রামকৃষ্ণের জন্মস্থান কামারপুকুর এবং সারদাদেবীর জন্মস্থান জয়রামবাটি – এই দু’টি গ্রাম তাই ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। যাঁরা ভক্তিবাদের পথিক নন, তাঁরাও রামকৃষ্ণ-সারদাদেবীকে মণীষী হিসেবে শ্রদ্ধা করে থাকেন। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান কলকাতাতেই।  

হুগলি জেলায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা গ্রাম কামারপুকুর। রামকৃষ্ণ মঠে মেন গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখতে পাবেন এক আমগাছ। রামকৃষ্ণ নিজেই এটি রোপণ করেছিলেন। রামকৃষ্ণ যেখানে ভূমিষ্ট হয়েছিলেন, একটি মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে। ঠাকুর রামকৃষ্ণের সমাধিমগ্ন মর্মরমূর্তির দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করলে মনের সব ক্লেদ দূর হয়ে যাবে, ভক্তদের এমনই বিশ্বাস। মন্দির সংলগ্ন রামকৃষ্ণের বাসভবনটিও দেখা মতো। তার উত্তরদিকে যুগিদের শিবমন্দির। ভক্তরা বলেন, রামকৃষ্ণ জন্মানোর আগে তাঁর মা চন্দ্রমণি দেবীর অলৌলিক অনুভূতি হয়েছিল এখানে। শিবমন্দিরের উত্তরদিকে দেখা যাবে বিশাল হালদারপুকুর। 

আরেকটি দর্শনীয় স্থান রামকৃষ্ণের পাঠশালা। লাহাদের চণ্ডীমণ্ডপের সামনে এই পাঠশালায় গদাধর অর্থাৎ রামকৃষ্ণ ছোটোবেলায় পড়াশোনা করতে যেতেন। যদিও তাঁর জাগতিক বিদ্যাচর্চার প্রতি খুব একটা মনোযোগ ছিল না। এছাড়াও দেখতে পারেন রঘুবীরের মন্দির, লক্ষ্মীজলা, লাহাদের বাড়ি, পার্বতীনাথ মন্দির, বিষ্ণুমন্দির, পাইনবাড়ি, চিনু শাঁখারির ভিটে, গোপীশ্বরের মন্দির, ধনী কামারনির বাড়ি ও মন্দির, মানিক রাজার প্রাসাদ ইত্যাদি।

কামারপুকুরের পর চলে যান জয়রামবাটি, বাঁকুড়া জেলায়। জয়রামবাটি মঠে গিয়ে প্রথমেই দেখবেন মাতৃমন্দির। যেখানে সারদাদেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন, মন্দিরটি ঠিক সেখানেই অবস্থিত। রয়েছে তাঁর শ্বেতপাথরের বিগ্রহ। মন্দিরের বাঁ দিকে সারদাদেবীর পুরোনো বাড়ি। ১৯১৫ সাল পর্যন্ত তিনি এখানে থাকতেন। তারপর নতুন বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এটিও মঠের মধ্যেই রয়েছে। জয়রামবাটির অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলি হল পুন্যিপুকুর, ধর্মঠাকুরের মন্দির, সিংহবাহিনীর মন্দির প্রভৃতি। জয়রামবাটি থেকে কলকাতায় আসার পথে সারদাদেবী কোয়ালপাড়ায় বিশ্রাম নিতেন। এই আশ্রমেও যেতে পারেন। আর কামারপুকুর-জয়রামবাটির বিখ্যাত সাদা বোঁদে খেতে ভুলবেন না যেন।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে মোটামুটি ১০০ কিলোমিটার দূরে কামারপুকুর। গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন, পৌঁছতে ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। সেখান থেকে জয়রামবাটি ৬ কিলোমিটারের মতো, ১৫-২০ মিনিটের রাস্তা। একদিনের মধ্যেই এই দুটি জায়গায় ঘুরে কলকাতা ফিরে আসা যায়।
Developed by DXDasia