পরিবেশ বাঁচাতে হাজার হাজার বট গাছ লাগিয়ে নজির গড়ছেন কুতুবুদ্দিন খান

সব গাছ নয়, প্রকৃতিকে বাঁচাতে বট গাছই বেছে নিয়েছেন কুতুবউদ্দিন বাবু

বিগত বছরগুলি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, গাছ লাগানোয় সচেতনা বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গবাসীর। একদিকে যেমন বেড়েছে বৃক্ষরোপণ, তেমনি আমফান, ইয়াসের জেরে যথেচ্ছ ক্ষতি হয়েছে প্রকৃতির। উপড়ে গিয়েছে বহু গাছ, ভিটে হারিয়েছে গাছের আশ্রয়ে থাকা বহু প্রাণী-পাখি। তাই সব দিক ভেবেচিন্তে গাছ লাগানোয় নজির স্থাপন করছেন পেশায় ক্রিকেট কোচ, কিন্তু কাজে পরিবেশ বাঁচানোর কাণ্ডারি কুতুবুদ্দিন খান।

সব গাছ নয়, প্রকৃতিকে বাঁচাতে বট গাছ লাগান কুতুবউদ্দিন বাবু। তাঁর কথায়, ‘এর মূলত তিনটি কারণ আছে প্রথমত বটগাছ বহু শত বছর বাঁচে। এমনকি এর মূল গুড়ি নষ্ট হয়ে গেলে গাছ থকে চারিদিকে যে ঝুড়ি নামে সেগুলো পরে গুড়ি হয়ে যায় আর গাছটিকে বহুশত বছর বাঁচতে সাহায্য করে, যেমন হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে। সেই সঙ্গে এই বটগাছের ছায়া যেমন মানুষের খুব পছন্দ সেই সঙ্গে বিভিন্ন পাখি তারা এই গাছে বাসা করতে ভালোবাসে। কারণ বট গাছ অনেক শক্ত হয়, ঝড়ঝাপ্টা সহ্য করার অনেক ক্ষমতা থাকে। ফলে পাখির বাসা যেহুতু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সাধারণত নষ্ট হয় না, তাই অধিকাংশ পাখিই এই বটগাছে তাদের বাসা বানাতে পছন্দ করে।’ ২০০০ সাল থেকে তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে বোলপুর এবং সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকাতে, বিশেষ করা গ্রামাঞ্চলে, নিজের প্রচেষ্টাতেই বট গাছ রোপন করে চলেছেন। সংখ্যাটাও নেহাত কম হলো না। আজ পর্যন্ত তিনি আশি হাজার ন’শ পঁচাশিটা (৮০,৯৮৫) বট গাছ রোপন করেছেন। আমাদের পরিবেশের জীব বিচিত্রে প্রতিটি প্রাণীর, ছোট ছোট পাখিরও, অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। বট গাছে যদি বেশী বেশী করে পাখি আসে, বাসা বানায় – সেটা তাদের ও আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে সাহায্য করবে। বট গাছের ফল পাখিদের খুব প্রিয় বলে দাবি করেন কুতুবউদ্দিন বাবু। তিনি মনে করেন, বট গাছের কাঠ থেকে যেহেতু কোন আসবাবপত্র তৈরি হয় না, তাই মানুষের আক্রমণ বা মানুষের হাতে বটগাছ কাটা পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম থাকে। কিছুটা ধর্মীয় ভাবাবেগে জড়িয়ে থাকে এই বটগাছকে কেন্দ্র করে। ফলে বটগাছের আঘাত কম।

মঙ্গলবার সকালে শান্তিনিকেতন থানার লায়েকবাজার অঞ্চলের একটি শিশু উদ্যানে আবারও চারটি বট গাছ রোপন করেছেন কুতুবউদ্দিন বাবু।
 

Developed by DXDasia