বাংলার কিংবদন্তিদের জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুর

প্রাচীন থেকে আধুনিক যুগ – এই জেলার ঐতিহ্য চমকে দেওয়ার মতো

বীরসিংহ – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান 

১ জানুয়ারি ২০০২, পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলা দু’ভাগে বিভক্ত হল – পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর। জনসংখ্যার নিরিখে অখণ্ড মেদিনীপুর ছিল সারা ভারতের সবথেকে বড়ো জেলা। জনসংখ্যা ছিল ৯৭ লক্ষ। ভাগ হওয়ার পর এখনও পশ্চিম এবং পূর্ব মেদিনীপুর রয়েছে রাজ্যের বড়ো জেলাগুলির মধ্যেই। বিভাজনের ফলে মেদিনীপুর সদর, খড়গপুর, ঝাড়গ্রাম এবং ঘাটাল মহকুমা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরে। মেদিনীপুর শহরকে ঘোষণা করা হল জেলা সদর হিসেবে।

তবে এই বিভাজন দুই জেলার পর্যটন শিল্পে কোনো খারাপ প্রভাব ফেলেনি। সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। সুবর্ণরেখা, কংসাবতী এবং তারাফেনি নদীর উপত্যকায় পাওয়া গিয়েছে প্রস্তর যুগের ধ্বংসাবশেষ। যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৮ হাজার থেকে ২ হাজার বছর আগেকার সামগ্রী। 

গনগনি 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং ক্ষুদিরাম বসু – বাংলার দুই কিংবদন্তি মনীষীর জন্মস্থান দেখতে বহু ভ্রমণার্থী পাড়ি জমান পশ্চিম মেদিনীপুরে। ইতিহাসে এই দু’জনের অবদান কোনো বাঙালিই ভুলতে পারে না। তাঁদের মহান কীর্তির সাক্ষী হয়ে আজও পুরোনো দিনের গল্প শোনায় বীরসিংহ এবং মৌবনি গ্রাম।

বাংলার নবজাগরণে অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন বিদ্যাসাগর। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সমাজ-সংস্কারক, অনুবাদক, প্রকাশক, উদ্যোগপতি – সব মিলিয়ে বহুমুখী প্রতিভা।   ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্ম হয় বীরসিংহ গ্রামের ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভগবতী দেবীর ঘরে। সেই গ্রাম এখন ঘাটাল মহকুমায়। ঘাটাল থানা এবং ঘাটাল সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে দূরত্ব ১১.৬ কিলোমিটার। যে বাড়িতে তিনি জন্মেছিলেন, তা যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা হয়। পর্যটকদের জন্য দরজা খোলাই থাকে। সবথেকে কাছের শহর খড়ারের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার।

মোগলমারি

স্বাধীনতার দাবিতে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহিদ হয়েছিলেন বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। মৌবনি গ্রামে তাঁর জন্ম হয় ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর। বাবা ত্রৈলোক্যনাথ ছিলেন একজন তহসিলদার। ফলে সেই পরিবারের আলাদা সম্মান ছিল। ক্ষুদিরাম অবশ্য এসবের পরোয়া করতেন না। অত্যাচারী ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে হত্যা করার সংকল্প নিয়ে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন বিহার। দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁদের বোমায় প্রাণ হারান দুই নিরীহ ব্রিটিশ মহিলা। ১৯০৮ সালে বিপ্লবী ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দেয় ইংরেজ সরকার। তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স ছিল তাঁর। মৌবনি গ্রাম এখন মেদিনীপুর তালুকে অবস্থান করছে। ক্ষুদিরামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর জন্মস্থান নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আপনিও গিয়ে দেখে আসতে পারেন।

মৃত্তিকা ট্যুরিজম প্রপার্টি 

পশ্চিম মেদিনীপুরে রয়েছে আরও অনেক জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন। মোগলমারিতে গিয়ে দেখুন প্রাচীন বৌদ্ধ মঠের ধ্বংসস্তূপ। গড়বেতা শহরের কাছে গনগনিতে পাবেন প্রকৃতির মোহময় দৃশ্য। ‘বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ নামে পরিচিত এটি। মেদিনীপুর শহর থেকে দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার দূরে। গগনেশ্বর গ্রামের রহস্যময় কুড়ুমবেড়া দুর্গে অনেকে ঘুরতে যান। খড়গপুর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে।

পশ্চিম মেদিনীপুরে আপনাকে স্বাগত জানায় পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব মৃত্তিকা ট্যুরিজম প্রপার্টি (পূর্বতন ‘রানি শিরোমণি পর্যটক আবাস’)। আত্মীয়-পরিবার-বন্ধুবান্ধব নিয়ে কয়েকদিন স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন। মেদিনীপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও কম। সেখানে পৌঁছনোর সবথেকে সহজ উপায় হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরা। অথবা জাতীয় সড়ক ১৬ ধরে কলকাতা থেকে ১৩১.৪ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়েও যেতে পারেন। সাড়ে ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। 

বুকিং এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের আরও ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন – 
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
 

Developed by DXDasia