
একাডেমি মিউজিয়াম অফ মোশন পিকচার্স ভারতীয় চলচ্চিত্রের মাস্টার সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করছে আরেকবার
একাডেমি মিউজিয়াম অফ মোশন পিকচার্স ভারতীয় চলচ্চিত্রের মাস্টার সত্যজিৎ রায়ের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর বিপুল কর্মকাণ্ডকে স্মরণ করছে আরেকবার। থাকছে মূল আয়োজনের প্রধান দুটি অংশে বিভাজিত রেট্রোস্পেকটিভ।
গত ২ মে, ২০২১ সত্যজিৎ রায় একশো বছর পূর্ণ করেছেন। সেই উপলক্ষে ভারতের নানান প্রান্ত সারা বছর নানারকম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সত্যজিৎকে স্মরণ করেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল অস্কারের একাডেমি মিউজিয়াম অফ মোশন পিকচার্স। সত্যজিৎ রায় তাঁর সারাজীবনের কৃতিত্ব স্বরূপ ১৯৯২ সালে পান অস্কার৷ রোগশয্যায় শায়িত এই কিংবদন্তি মানুষটি অস্কার হাতে নিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছিলেন অস্কার কমিটির প্রতি। অস্কার পাওয়ার পর গোটা বিশ্বে আরও ছড়িয়ে পড়ে তাঁর কাজ। যদিও পুরস্কার পাবার কিছুদিনের মধ্যেই প্রয়াত হন এই কিংবদন্তি।

রেট্রোস্পেক্টিভের প্রথম অংশ, যা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, চলবে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই পর্বে দেখা যাচ্ছে ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত সত্যজিতের বিপুল কর্মকাণ্ড। গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর ত্রিশের দশকে পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন রায়। ‘পথের পাঁচালি’ নির্মাণের জার্নি খুব সহজ ছিল না। তবে শুটিং চলাকালীন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ছবি মুক্তির পর সত্যজিৎ নিজেই লিখছেন, “অত ভালো একটা চাকরি যে ছেড়ে দেব, তার আগে তো পরের ছবিটা করবার মতো একটা গল্পের খোঁজ পাওয়া চাই। সেইসঙ্গে চাই এমন কাউকে, ছবির পিছনে যিনি টাকা ঢালতে রাজি হবেন। ‘পথের পাঁচালি’ সফল হওয়াত অবশ্য এই ভরসাটা ছিল যে, পরের ছবিটা তুলতে আর এত বেগ পেতে হবে না।”
একাডেমি মিউজিয়ামে থাকছে সত্যজিৎ সৃষ্ট অপু ট্রিলজির বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহ। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নানান কাজের নিদর্শন। রেট্রোস্পেক্টিভের বেশিরভাগ ছবি একাডেমি ফিল্ম আর্কাইভের সত্যজিৎ রায় সংরক্ষণ প্রকল্প দ্বারা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। যা উল্লিখিত মিউজিয়ামের টেড মান থিয়েটারে সংরক্ষিত আছে। প্রদর্শিত হবে ৩৫ এমএম প্রিন্টের মাধ্যমে।

রেট্রোস্পেকটিভের আয়োজক একাডেমি মিউজিয়ামের সিনিয়র ফিল্ম প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বার্নার্ডো রনডেউ। রেট্রোস্পেকটিভের দ্বিতীয় অংশটি প্রদর্শিত হবে ২০২২ সালে।
