দেশভাগ থেকে তালিবানি তাণ্ডব, ঘরছাড়াদের কথা বলবে ‘নাকতলা উদয়ন’

নাকতলা উদয়ন সংঘে এবারের শিল্পী প্রদীপ দাস

সাতচল্লিশের দেশভাগ থেকে হাল আমলের তালিবানি তাণ্ডব। এক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ, যাঁরা অচিরেই হয়ে উঠেছেন পরিযায়ী। বাড়ি ছিল, বন্ধু ছিল, প্রেম ছিল, চাকরি ছিল – তারপর কালের নিয়মে আর কিছু দেশের রাজনীতির নিয়মে সব গেল। শুধু প্রাণ হাতে করে বাঁচা। এ-ও কি বাঁচা? কতদিন? মানুষ পারে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে পারে। তারপর আবার বাড়ি, বন্ধু, প্রেম, চাকরি। তবে অন্য দেশের অন্য কোনোখানে।

প্রায় ২৫ বছর পর আবারও তালিবানি তাণ্ডবে রক্তাক্ত আফগানিস্তান। আতঙ্কে ঘরছাড়া বহু মানুষ। তাঁদেরও হয়তো ছোটোবেলার স্মৃতি, আপনজনের স্নেহ, নদী-মাঠ, ঘাসফুল, দোলনা সবকিছু পিছনে ফেলে অনিশ্চিয়তার পথে পা বাড়ানো। এ বছর পুজোয় এমন যন্ত্রণার ছবিই ফুটিয়ে তুলবেন শিল্পী প্রদীপ দাস, দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বড়ো পুজো নাকতলা উদয়ন সংঘে।

ঠিক কেমন ভাবে ভাবছেন শিল্পী? বঙ্গদর্শনকে প্রদীপ দাস জানিয়েছেন, “রূপান্তর হতে হতে অজান্তেই জীবনের বদল ঘটে যায়, এদেশ থেকে ওদেশ, একাল থেকে ওকাল, মুলুক বদল হতে হতে পাঁচিল পড়ে যায় এক একটা জীবনের মাঝে। মানুষ পাহাড় ডিঙানোর সাহস পায়, তবু সময়ের নিরিখে যে তারকাটা সে পেরিয়ে চলে এসেছে সেদিকে আর পেছন ফেরা হয়ে ওঠে না। …এই সময়, সভ্যতা, নদী-মাঠ, ঘাসফুল, তুলসীতলা, বাক্সপ্যাট্রা কতকিছু এলোমেলো অগোছালো পড়ে রইলো। জীবনের মাঝে বিরাট এক পাঁচিল উঠে গেলো অজান্তেই। এখন খোঁজ চলে কোনটা নিজের? এপার না ফেলে আসা ওই পারটা!”

করোনা কালে প্রথমে ঠিক হয়েছিল ক্লাবের ভিতর নমো নমো করেই হবে পুজো। তবে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করতেই সিদ্ধান্ত বদলায়। ঠিক হয়, করোনাবিধি মেনে জাঁকজমক করেই দেবীদুর্গাকে আরাধনা করা হবে। সেই মতো শহরের দুই অতি পরিচিত শিল্পী প্রদীপ দাস ও ভবতোষ সুতারকে সৃজনের দায়িত্ব দেন উদ্যোক্তারা। থিম নির্মাণ করবেন প্রদীপ আর সেই অনুযায়ী প্রতিমা গড়বেন ভবতোষ। সময় অল্প, তাই কাজ চলছে পুরোদমে।  

থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘চল্‌ চিত্র’। প্রদীপ দাসের কথায়, “এমনই ফেলে আসা আবার সাথে নিয়ে চলা জীবনের ছবি দেখবো নাকতলা উদয়ন সংঘের এ বছরের দুর্গাপুজোয়।”

Developed by DXDasia