
সিউড়ির জিভে জল আনা মোরব্বা এসেছে পর্তুগিজদের হাত ধরে
কলকাতায় ব্রিটিশদের গড়ে তোলা স্থাপত্য আমাদের মুগ্ধ করে। ব্রিটিশদের আগে পর্তুগিজদের থেকেও আমার পেয়েছি অনেক কিছু। বিশেষ করে মিষ্টির কথা বলাই যায়। বাঙালি ছানার ব্যবহার শিখেছে পর্তুগিজদের কাছে। প্রাচীন ভারতে ছানাকে অপবিত্র মনে করা হত, তাই খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। আমাদের রসগোল্লা জন্য তাই পর্তুগিজদের কাছে ঋণ স্বীকার করতেই হয়। তাদের দৌলতে আরও বেশ কিছু মিষ্টির প্রচলন এখানে। এমনকি পর্তুগিজরা আমাদের মোরব্বা বানানোও শিখিয়েছে।
আমলকির মোরব্বা
‘মোরব্বা’ শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ ‘মুরাব্বা’ থেকে, যার অর্থ সংরক্ষিত ফল, স্বাদে মিষ্টি। ককেসাস, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের নানা জায়গায় এটি জনপ্রিয়। ফল, চিনি আর মশলা দিয়ে এই খাবার তৈরি হয়। বাঙালি যেমন পর্তুগিজদের থেকে ছানা খাওয়া শিখেছে, সুস্বাদু মোরব্বা তৈরির পদ্ধতি জেনেছে তাদের থেকেই।
সিউড়ির মোরব্বার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। লোকে বলে, এখানকার জিভে জল আনা মোরব্বা প্রথম বানানো হয়েছিল রাজনগরে। কাঁচা ফলমূল গাঢ় চিনির রসে ডুবিয়ে মোরব্বা তৈরি হয় সিউড়িতে। পটলের মোরব্বা, বেলের মোরব্বা, চাল কুমড়োর মোরব্বা, আমলকির মোরব্বা ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। দূর-দূরান্ত থেকে যে সমস্ত পর্যটকেরা সিউড়ি যান, মিষ্টির দোকান থেকে পছন্দমতো মোরব্বা খেয়ে পঞ্চমুখ হন প্রশংসায়।
বেলের মোরব্বা
বিশিষ্ট লেখক অবিনাশচন্দ্র ঘোষ লিখেছেন, পর্তুগিজ বণিকদের থেকেই ভারতে মোরব্বার প্রচলন ঘটে। সিউড়ির বিখ্যাত মোরব্বা নিয়ে আরেকটি গল্প প্রচলিত আছে। স্থানীয় লোকেরা বলে থাকেন, ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মিষ্টি ব্যবসায়ী হরিপ্রসাদ দে গিয়েছিলেন দিল্লি। সেখানে পেঠা নামের মিষ্টি খেয়ে মোহিত হন। উত্তর ভারতে, বিশেষ করে আগ্রায় এই মিষ্টি তখন প্রচলিত ছিল। হরিপ্রসাদ মিষ্টি তৈরির কৌশল শিখে বাংলায় ফিরলেন আর মোরব্বা বানানোর পরিকল্পনা করলেন। এই ঘটনা সত্যিই ঘটেছিল বলে জানান তাঁর বংশধর নন্দদুলাল দে।
আরও পড়ুন: দার্জিলিংয়ের হারিয়ে যাওয়া আকর্ষণ
হরিপ্রসাদের নতুন মিষ্টি সবার মন জয় করে নেয়। বাংলার মিষ্টি ব্যবসায়ীরা মোরব্বা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করলেন। পরবর্তীকালে নতুন নতুন সবজি এবং ফল ব্যবহার করে বানালেন নানা রকমের উপাদেয় মোরব্বা। এরপর বীরভূম যখন যাবেন, সিউড়ির মোরব্বা চেখে দেখতে ভুলবেন না।

