মিশন ক্যাফের অভিনব কালি চানা বাটরা

বহু মানুষ কেবল স্যান্ডউইচ খেতেই এখানে ভিড় করেন

বাঙালি চিরকালই আমিষাশি। বিশ্বায়নের যুগে চিকেন এবং মাটনের বিভিন্ন পদ এখন হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে পাওয়া যায় খুব সহজেই। আর বাঙালিও সেই সব জায়গায় ভিড় জমায় পেটপুজোর বন্দোবস্ত করতে। তবে ভালো নিরামিষ খাবারের স্বীকৃতি দিতেও যে বাঙালি ভোলে না, মিশন ক্যাফেতে গেলেই তার পরিচয় মিলবে। মধ্য কলকাতায় ভালো জলখাবার যে কয়েকটি দোকানে পাওয়া যায়, তার মধ্যে এই দোকান খাদ্যরসিক লোকজনের কাছে বেশ জনপ্রিয়। গনেশ চন্দ্র অ্যাভিনিউ যেখানে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গিয়ে মিশেছে, ঠিক সেই মোড়েই চোখে পড়বে মিশন ক্যাফে। দোকানটির বিশেষত্ব হল, এখানে আপনাকে দাঁড়িয়ে খেতে হবে টেবিলে খাবার রেখে। দোকানে জায়গা কম, অথচ প্রচুর লোক আসেন, তাই বসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পাওয়া যায় মিশন ক্যাফেতে। এদের খাবার সমস্ত মানুষের খুব প্রিয়। এক কথায়, যারাই খেয়েছে, তারাই মজেছে।  

    
আজ থেকে প্রায় ৫৫ কি ৬০ বছর আগে শ্যামসুন্দর বাগারিয়া শুরু করেছিলেন এই দোকান। যেহেতু খাবারের মান খুব উন্নত, সেই কারণে প্রচুর ভিড় হয় মিশন ক্যাফেতে। এদের সব থেকে বিখ্যাত খাবারটি হল কালি চানা বাটরা। অনবদ্য স্বাদ। দোকানের মালিক রবি কুমার বাগারিয়ার কথায়, “এমন স্বাদের চানা বাটরা কলকাতার আর কোথাও পাবেন না”। স্যান্ডউইচের জন্যও নাম আছে এদের। বহু মানুষ কেবল স্যান্ডউইচ খাওয়ার জন্যই এখানে ভিড় করেন। এছাড়া ধোসা, ইডলি, বড়া, টোস্ট, পকোড়া এবং নিরামিষ কিছু চাইনিজ পদেও রসিক লোকের রসনা তথা মন জয় করেছে এই ক্যাফে।      

 

যদিও দাঁড়িয়ে খেতে হয়, তা সত্ত্বেও দোকানে গেলেই বুঝতে পারবেন, এদের সার্ভিস খুব ভালো। দোকানের সামনেও কিছু মানুষ বসে খাবার খান। খাবারের দাম কিন্তু খানিকটা বেশিই। ভালো মানের খাবারের দাম ভালো হবে, ‘বঙ্গদর্শন’-এর প্রতিনিধিকে এটাই জানালেন মিশন ক্যাফের এখনকার মালিক। তাঁর কথায়, “আমরা এক নম্বর তেল আর মশলা ব্যবহার করি। মশলা দেওয়া, তেল দেওয়া খাবার হলেও আমাদের খাবার খেয়ে কোনদিনও শরীর খারাপ হবে না”। মূলত অফিস অঞ্চল হওয়ার জন্য টিফিনের সময় বেশ ভিড় হয়। স্বাদের মধ্যে উত্তর ভারতীয় প্রভাব বেশি। কোনো কাজে যদি কখনও বৌবাজার অঞ্চলে যান, ‘মিশন ক্যাফে’-তে একবার ঢুঁ মারতে ভুলবেন না।
 

Developed by DXDasia