বাংলার হারিয়ে যেতে বসা প্রাণসম্পদকে বাঁচাতে খাল-বিল উৎসব

গ্রামবাংলায় বর্ষশেষের উদযাপন

হুরে বাজারে মৌরলা, চুনো পাওয়া গেলেও সরপুঁটি, প্যাঁকাল, ন্যাদোস, চ্যাং, কাজলি খুঁজে পাওয়া মানে হাতে চাঁদ পাওয়া। তথ্য বলছে, প্রায় ৬৪ রকমের ছোটো মাছ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছোটোমাছ হারিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে প্রধান কারণ তাদের আবাসস্থল বিনষ্ট হওয়া, প্রজননক্ষেত্র কমে যাওয়া। যথেচ্ছ রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের ফলেও ছোটোমাছ কমে গেছে। তাই, এবার জলাশয় এবং খাল-বিলের হারিয়ে যাওয়া চুনো মাছকে বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

মৎস্য মন্ত্রীর কথায়, পর্যটকদের কাছে ব্যাপক আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে খাল বিল। এখন পরিযায়ী পাখির ঠিকানা হয়েছে বাঁশদহ ও চাঁদের বিল। আসছেন পর্যটকরা।

বাংলার হারিয়ে যেতে বসা প্রাণসম্পদকে বাঁচানোর বার্তা নিয়ে বড়োদিনে, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর বাঁশদহ ও চাঁদের বিল-এ আয়োজিত হয়েছিল ২৪তম খাল-বিল উৎসব। এককথায় ছোটো মাছ, পিঠেপুলি ও প্রাণীপালন উৎসব। তিনদিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উৎসবের উদ্যোক্তা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক আয়েষা রানি এ, পুলিস সুপার সায়ক দাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার প্রমুখ।

মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে ছিল লোকজীবনে যুক্ত নানা শিল্পের প্রদর্শনী। প্রকাশিত হয় এলাকার তীর্থক্ষেত্র ও চুনোমাছের গুরুত্ব-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে একটি পত্রিকা। বিলের জলে ছাড়া হয় বিভিন্ন মাছের চারা। মৎস্য মন্ত্রীর কথায়, পর্যটকদের কাছে ব্যাপক আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে খাল বিল। এখন পরিযায়ী পাখির ঠিকানা হয়েছে বাঁশদহ ও চাঁদের বিল। আসছেন পর্যটকরা। দুটি গেস্টহাউস আছে। শ্রমজীবী মানুষের কথা ভেবে শ্রমদপ্তরের উদ্যোগে আরও একটি গেস্টহাউস তৈরির কাজও শুরু হবে। শ্রমজীবী মানুষরা বিনামূল্যে থাকতে পারবেন। খাল বিলের জলে হাউস বোট করার ভাবনাও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বন্যজন্তু সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে যেমন অভয়ারণ্য বলা হয়, তেমনই বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ সংরক্ষণের জন্য রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে অভয়পুকুর। বিলুপ্তপ্রায় ছোটো মাছকে সংরক্ষণের আওতায় আনার জন্যে এই অভয় পুকুর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। রাজ্য সরকারের জীববৈচিত্র্য পর্ষদের অধীনে এই অভয়পুকুর তৈরি করা হয়েছে ইতিমধ্যে প্রায় প্রতিটি ব্লকে। যেখানে ছোটো মাছ নির্ভয় থাকতে পারবে।
 

Developed by DXDasia