বিশ্বের দুয়ারে পৌঁছে যাবে কালিম্পংয়ের কফি! উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য

পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ সফল হয়েছে উত্তরের এই জেলায়

বাংলা ও বাঙালি মানেই চা। দার্জিলিংয়ের চায়ের প্রেমে হাবুডুবু খায় আবিশ্ব। তবে, চায়ের পাশাপাশি অনেকদিন ধরেই উত্তরবঙ্গে কফি চাষ হয়ে আসছে। সঠিক উদ্যোগের অভাবে এতদিন বাণিজ্যিক ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। এবার, বিশ্বের দরবারে কালিম্পংয়ের কফিকে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ সফল হয়েছে উত্তরের এই জেলায়। কফি চাষের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও উন্নত করা এবং বিদেশের বাজারে কফি রপ্তানিই জেলা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ সফল হয়েছে উত্তরের এই জেলায়। কফি চাষের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও উন্নত করা এবং বিদেশের বাজারে কফি রপ্তানিই জেলা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

আমদের দেশে সাধারণত দক্ষিণ ভারতেই বেশি কফি চাষ হয়। সিঙ্কোনা প্রকল্পের অধীনে ২০১৩-১৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ শুরু হয় কালিম্পং জেলায়। এই জেলার মাটি কফি চাষের জন্য উপযুক্ত। শুধু চারা থেকে গাছ তৈরির কৌশল শিখে নিতে হয়। পূর্ব-পশ্চিমমুখী হাওয়ায় সেই চারা মাটিতে বসাতে হয়। দক্ষিণী হওয়ায় একদিকে শাখা বের হলে তখন আবার চারা বিপরীত মুখে ঘুরিয়ে নিতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্কোনা প্রকল্পে উৎপাদিত কফি অত্যন্ত সুস্বাদু। বাজারে চলতি যে কোনও কফির সঙ্গে স্বাদ, গন্ধে টেক্কা দিতে পারে। বিশ্ববাজারে কালিম্পংয়ের কফিকে ব্র্যান্ডিং করতেই একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য।

কফি চাষের উন্নতির জন্য কাজ করছে জেলা শাসকের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, উদ্যানপালন বিভাগ এবং কফিচাষিদের প্রতিনিধি নিয়ে তৈরি একটি কমিটি। এছাড়াও, কফি চাষের পরিধি বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রস্তুতি, চাষের এলাকা চিহ্নিতকরণ, কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য জেলাস্তর একটি কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে ব্লক স্তরেও কমিটি তৈরি করা হবে। কালিম্পং ছাড়াও মংপু, রংগু, জলঢাকা, মনসুং ডিভিশনে বিস্তীর্ণ এলাকায় কফির চাষ হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে আউটলেটের মাধ্যমে কফি বিক্রিও করা হচ্ছে। বাংলায় উৎপাদিত এই কফি দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হচ্ছে।
 

Developed by DXDasia