এই প্রথম বাংলার মাটিতে জাফরান চাষ : কাশ্মীরের বহুমূল্য মশলা এবার কালিম্পংয়ে

জাফরান চাষ শুরু হয়েছে কালিম্পংয়ে

শুধু কাশ্মীর নয় বিশ্বের অন্যতম বহুমূল্য মশলা, জাফরান-এর চাষ এবার পশ্চিমবঙ্গেও। বিগত গত কয়েক মাসে একদিকে কালিম্পং এবং কার্শিয়ং-এর কৃষকরা যেমন ব্যক্তি উদ্যোগে সাধারণ পদ্ধতির জাফরান চাষের চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে মাটি, অ্যারোপনিক্স এবং হাইড্রোপনিক্স -এই তিন প্রক্রিয়ায় জাফরান চাষের চেষ্টা করা হয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ফ্লোরিকালচার অ্যান্ড এগ্রি-বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (COFAM)-এর পরীক্ষাগারে।

জাফরান চাষের মূল শর্তই হল তাপমাত্রা। দিনে ১৪ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত এই তাপমাত্রা মেলে।

অনলাইনে কাশ্মীরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাত্র পাঁচশো গ্রাম বীজ (বাল্ব) কিনে এনে নিজের জমিতে তিন মাস আগে চাষ শুরু করেন মহেন্দ্র ছেত্রী নামে এক কৃষক। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই চারা বার হওয়ার পরে ফুলও চলে আসে। আর ফুলের পরাগদণ্ড রোদে শুকিয়ে নিলেই তৈরি জাফরান। বাজার ধরার জন্য কোফাম-কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মহেন্দ্র। উৎপাদিত জাফরানের গুণমান পরীক্ষার জন্য কাশ্মীরেও পাঠানো হয়। সেখান থেকে সবুজ সংকেত আসায় পাহাড়ে অর্থকরী ফসল চাষের সঙ্কট মিটবে বলে মনে করছেন কোফামের কর্তারা। বিশেষ করে কমলা বাগানে জাফরানের মিশ্র চাষ হলে পাহাড়ের কৃষকদের অর্থের জোগান বাড়বে বলে মনে করেন তাঁরা।

উদ্যানতত্ত্ববিদদের কথায়, মাটিতে চাষ একটি সাধারণ পদ্ধতি হলেও, অ্যারোপোনিক্স হল কোনওরকম সাবস্ট্রেট ব্যবহার না করেই বাতাসে বা কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে গাছপালা বাড়ানোর প্রক্রিয়া। আর হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে গাছকে পূর্ণ-সময়ের জন্য জলে ঝুলিয়ে রাখা বা জল এবং পুষ্টির একটি বিরামহীন প্রবাহ বজায় রাখা হয়। কোফাম-এর প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেটর অমরেন্দ্র কুমার পাণ্ডে সংবাদমাধ্যমে বলেন, “বাংলায় প্রথমবার এই মশলা চাষ হচ্ছে। আমরা পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি শুরু করেছিলাম। কালিম্পং-এ ফুল ফোটায় আমরা এখন সাফল্য অর্জন করেছি। আমরা এখন কৃষকদের চাষের পদ্ধতি শেখাব এবং তাদের বিপণনেও সাহায্য করব।”

জাফরান চাষের মূল শর্তই হল তাপমাত্রা। দিনে ১৪ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত এই তাপমাত্রা মেলে। এছাড়া, শিলিগুড়ির কোফাম ল্যাবে সেই অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

Developed by DXDasia