ঝাড়গ্রামের ইকো-ট্যুরিজম রক্ষা করছে বন্যপ্রাণ ও আদিবাসী সংস্কৃতিকে
ঝাড়গ্রামকে বলা হয় জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্র। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা পশ্চিমবঙ্গের এই জেলা। লাল সুড়কির রাস্তা, শাল, মহুয়া, জারুল, পিয়ালের জঙ্গল, অসংখ্য প্রজাতির পাখি, ভাল্লুক, খরগোশ, হরিণ- গোটা অঞ্চল জুড়ে যেন প্রকৃতির নয়নাভিরাম সাম্রাজ্য। তারই মধ্যে রয়েছে গ্রাম, শহর, স্কুল, হাসপাতাল সবই। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মান সিংহ এবং আদিবাসী মল্লরাজাদের যুদ্ধের সাক্ষ্মী এই অঞ্চল- ফলে এই অঞ্চল ঐতিহাসিক ভাবেও প্রসিদ্ধ। আবার সাঁওতাল, লোধা, মুণ্ডা, মাহাতো, ভূমিজ প্রভৃতি আদিবাসী জনজাতির বাসভূমি। তবে সর্বাধিক গুরুত্বের বিষয় বোধহয় এই যে- প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কংসাবতী আর সুবর্ণরেখা নদী, বিভিন্ন জাতির মানুষের সংস্কৃতি, অভ্যাসের এই মিশ্রণে ঝাড়গ্রাম হয়ে উঠেছে রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।

ঝাড়গ্রামকে রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পিছনে রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টা। সেই সংক্রান্ত একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো ঝাড়গ্রাম প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্র (Jhargram Prakriti Parjatan Kendra)। এই কেন্দ্রটি গড়ে তুলেছে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেড। তারাই ঝাড়গ্রামের ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র-টি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে।
কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামের সদর শহরের দূরত্ব সড়কপথে ১৭৮ কিমি এবং রেলপথে ১৫৮ কিমি। সেই সদর শহরের থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে, ঝাড়গ্রাম ফরেস্ট ডিভিশনের অধীনস্থ বান্দরভুলা টিম্বার ডিপো (Bandorbhula Timber Depot)-র ঠিক উল্টোদিকে, প্রকৃতির বুকে অবস্থিত এই শান্ত, সুন্দর কেন্দ্রটি। গোটা রিসর্ট জুড়ে রয়েছে অত্যাধুনিক ৬টি কটেজ। কটেজগুলিতে সবরকম আধুনিক সুযোগসুবিধা, অর্থাৎ- টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, অ্যাটাচড বাথরুম, ফ্রি ওয়াইফাই, ইন্টারকম সবই রয়েছে। রয়েছে সুদৃশ্য কিচেন এবং ডাইনিং স্পেস, যেখানে বিভিন্ন পদের স্বাদু খাবার পেট আর মন দুই’ই ভরিয়ে তুলবে। পর্যটকদের অনুরোধে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে আদিবাসী সঙ্গীত ও নৃত্যের ব্যবস্থা করে থাকেন। সঙ্গে রয়েছে নয়নাভিরাম দৃশ্যপট। প্রচুর গাছগাছালি, অগুনতি পাখির কিচিরমিচির মন ভালো করে দেবেই। পাখি পর্যবেক্ষকদের স্বর্গরাজ্য এই এলাকা। বিশেষত শীতকালে, যখন পরিযায়ী পাখির ঢল নামে এখানে। মোরামের রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে দূরে দেখা পেতে পারেন হাতি, ভাল্লুকের, অথবা দেখতে পারেন- জঙ্গলের রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে একপাল হরিণ। নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখলে মন ভালো হয়ে যাবে।

পর্যটকরা এই ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের আতিথেয়তা ভোগ করার সঙ্গে সঙ্গে দেখে নিতে পারেন আশেপাশের দ্রষ্টব্যগুলিও। যেমন- ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, ঝাড়গ্রাম ডিয়ার পার্ক, সাবিত্রী মন্দির ইত্যাদি। এই ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের উদ্দেশ্য হলো বন সংরক্ষণ, আদিবাসী মানুষ এবং তাঁদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা, সঙ্গে পর্যটকদের একটি নিঁখুত ভ্রমণের আনন্দ দেওয়া। পুজোতে কলকাতার থেকে অনতিদূরে, স্বল্প খরচে প্রকৃতির কোলে ছুটি কাটানোর আদর্শ স্থান এই পর্যটনকেন্দ্রটি।
কীভাবে যাবেনঃ
সড়কপথে বাস বা গাড়িতে ঝাড়গ্রাম সদর, সেখান থেকে ৩ কিলোমিটার গেলেই ঝাড়গ্রাম প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্র। ট্রেনে গেলে হাওড়া, সাঁতরাগাছি বা শালিমার স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে বাস, গাড়ি, বা স্থানীয় যানবাহনে চড়ে ঝাড়গ্রাম প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে।
ঠিকানাঃ
বান্দরভুলা ইকো-ট্যুরিজম কমপ্লেক্স, ঝাড়গ্রাম শ্রী রামকৃষ্ণ সারদাপীঠ গার্লস হাইস্কুলের পাশে। জেলা- ঝাড়গ্রাম।
তথ্যসূত্রঃ রাজ্য বনদপ্তরের ফেসবুক পেজ