
আজ আন্তর্জাতিক সারমেয় দিবস
ওদের মতো হৃদয় মনে হয় আর কেউ জয় করতে পারে না। কুকুর ভালবাসেন না এমন মানুষ পৃথিবীতে বিরল নয়। তবে কুকুর ভালবাসেন এমন কোটি কোটি মানুষের কাছে আজকের দিনটি একটু বিশেষ। আজ আন্তর্জাতিক সারমেয় দিবস।
‘ন্যাশনাল ডগ ডে’ ওয়েবসাইট বলছে, ২০০৪ সালে পশুপ্রেমী কোলিন পেইগ প্রতি বছর ২৬ অগাস্ট দিনটিকে সারমেয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন। কেন এই দিনটি পালিত হয় তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘প্রতিদিন নানা কাজ করে জীবন অতিবাহিত করে কুকুররা…নিজেদের সুরক্ষা, আইনি সুরক্ষা, বিশেষভাবে সক্ষমদের সাহায্য, আমাদের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা, বোমা নিষ্ক্রিয় করার আগে সুরক্ষা, ধ্বংসাবশেষ থেকে দুর্গতদের তুলে আনা।’
যেসব চারপেয়ে সমাজের রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে, তাদের জীবনযাপন ঠিক কীরকম?
কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডে (পিটিএস-এ) এই মুহূর্তে ৪৮টি সারমেয় রয়েছে। সেখানে ‘এক্সক্লুসিভ’ সারমেয়দের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া ৪টি ট্র্যাকার-ডগ আছে, এদের ন’মাসের ট্রেনিং হয়। আইটিবিপি বা বিএসএফ এই দুই জায়গায় ট্রেনিং হয়। এক্সক্লুসিভ ডগ, নারকোটিক ডগ (এই মুহূর্তে তিনটি আছে), গার্ড ডগ, এদেরও ৬ মাসের ট্রেনিং হয়। প্রত্যেক দিন এদেরকে সকাল ৬.৩০টা থেকে প্র্যাকটিস করানো হয় ইনডোর বা আউটডোরে। তারপর ৮.৩০টা থেকে শুরু হয় গ্রুমিং, চলে আধঘণ্টা পর্যন্ত। ৯টার পর ওদেরকে খেতে দেওয়া হয়। সাধারণত ওদেরকে পেডিগ্রি খাওয়ানো হয়। পেডিগ্রির সঙ্গে ডিম অথবা দইও দেওয়া হয়। গরম পড়লে দইটা বেশি করে দেওয়া হয়। বিকেলে, ৩.৩০টে নাগাদ আবার প্র্যাকটিস। সকাল-বিকেল প্র্যাকটিসের পর মেরি বিস্কুট দেওয়া হয়। বিকেলের আবার মাঠে প্র্যাকটিস করানো হয়। সকালের মতোই আধঘন্টা গ্রুমিং সেশন। দুবেলাই গ্রুমিং সেশনে উপস্থিত থাকেন ভেট অ্যাসিস্ট্যান্ট। কোন সারমেয়র কী সমস্যা রয়েছে, সবকিছু পরীক্ষা করে দেখে। মোটামুটি ৬টার মধ্যে বিকেলের খাওয়ারটা ওদেরকে দিয়ে দেওয়া হয়। বিকেলের খাবার- বয়েলড রাইসের সঙ্গে চিকেন, টাটকা সবজি।
আরও পড়ুন: ওয়াচ ডগ
‘ইন্টারন্যাশনাল ডগ ডে’-তে কলকাতা পুলিশ ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট-এর মানবেন্দ্র মল্লিকের বিশেষ বার্তা “এত বিশ্বস্ত প্রাণী বোধহয় পৃথিবীতে আর নেই। এদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। এরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু এদের আবেগ-বুদ্ধি মানুষের থেকেও প্রখর। এদেরকে যদি একটুকরো রুটি খেতে দেন, এরা কিন্তু মনে রাখবে, ভুলে যাবে না, বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। আমরা সবসময় ওদেরকে সন্তান-স্নেহ দেওয়ার চেষ্টা করি।”
