নব্বইয়ের দশকে আঁকা ওয়াচ ডগ ছবিটি এক ভিন্ন লালু প্রাসাদ-কে চেনায়। ছবিতে বাবু-বিবির পরিবর্তে ফিরে আসে সত্তর দশকের অন্ধকার।

নব্বই এর দশক। লালুপ্রসাদ সাউ আঁকলেন ‘ওয়াচ ডগ’ নামে একটি ছবি। ঠিক যে রকম ছবি বা বিষয় তিনি আঁকতে ভালবাসেন এই ছবি চেহারায় চরিত্রে এবং চাক্ষিক স্বাদে একেবারেই ভিন্ন। এর মধ্যে বাবু-বিবি নেই, ফুল হাতে ঘরের মেয়ে নেই, মাছ নেই, প্রজাপতি নেই, কাক-শালিক নেই এমনকি নেই স্টুডিওতে দাঁড়িয়ে পরিবারের ছবি তোলার মত কিছু চিত্র লক্ষণও। বলতে গেলে একেবারে ভিন্ন এক লালুপ্রসাদ। ছবিটি দেখলে মনের মধ্যে নিজে থেকেই ক্রিয়া করতে থাকে থম থমে পরিস্থিতির এক নিঝুম অন্ধকার। রাস্তায় দাঁড়ানো কুকুরটি কোন শব্দ করে না। কিন্তু  আতঙ্ক দৃষ্টিতে অনেক দূরের দিকে তাকিয়ে থাকে। গাছপালার উপরে নামে জমাট বাঁধা অন্ধকার। এবার ছবিটি তলিয়ে দেখার দরকার পরে।

একটা ভাঙা দরজা। দরজার সিমেন্টের থামে একটি রাজনৈতিক দলের নাম সাঁটা সাদা কাগজ। দেখলে মনে হয় যেন আঙুল কেটে রক্ত দিয়ে লেখা S.F.I । আর দেওয়ালের গায়ে শুকিয়ে থাকা রক্তের মত আবছা লালচে রঙে পড়া যায় আরেকটি রাজনৈতিক দলের নাম- নকশাল। নব্বইয়ের দশকে দাঁড়িয়ে লালুপ্রসাদ সাউ হঠাৎই ফিরে গেলেন সত্তরের দশকে। যে পন্থায় তিনি এই দশকে ছবি আঁকছেন অনেকটা সরে গেলেন তার থেকেও। এর মধ্যে রয়েছে এক আশ্চর্য অতীত বিচরণের নিপুণ গল্প। ছবির নাম ঐ কুকুরটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। কারণ ছবিটির নাম হল – ‘ওয়াচ ডগ।’ কিন্তু ছবিটি যদি একটু চোখ খুলে দেখা যায় তবে তা আমাদের সামনে হাজির করে আরও অন্য কিছু প্রসঙ্গ। তখন আর ছবিটি শুধু মাত্র ঐ কুকুরটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে থাকে না।

দর্শকের জন্য কিছু প্রশ্ন রেখে যান শিল্পী। যখন আমরা দেখি ছবিটির নাম রাতের কলকাতা নয় কিংবা ছবিটির নাম নাইট ওয়াচ’ও নয় ছবিটির নাম সরাসরি ‘ওয়াচ ডগ’। রাতের অন্ধকারে জেগে থাকা এক কুকুর সুদূর প্রসারী দৃষ্টি দিয়ে দেখে চলেছে সর্বনাশা দিনের কালকড়চা।

এমন ঘটনাকে শিল্পী পর্যবেক্ষণ করেছিলেন ষাট কিংবা সত্তর দশকে। প্রায় কুড়ি বছরের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে অতীতের দিকে ফিরে তাকাচ্ছেন শিল্পী লালুপ্রসাদ সাউ। আসলে কোন কোন কাল বা সময় দাগ দগে ঘায়ের মতই বেঁচে থাকে মানুষের জীবনে।

Developed by DXDasia