সংগীত গুহার দেশ চামুরচি

ভুটানের প্রবেশদ্বার

চারদিকে সবুজ অরণ্য আর দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগান। ভারত-ভুটান সীমান্তে চামুরচি গ্রাম যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য। জলপাইগুড়ি থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে শান্ত নিরিবিলি জায়গা। আবহাওয়া মনোরম। পর্যটকদের কাছে খুব একটা পরিচিত হয়ে ওঠেনি। ভিড়-ভাট্টা যদি পছন্দ না করেন, একান্তে কিছুটা সময় কাটাতে চান পাহাড়, নদী, জঙ্গলের মাঝখানে – তাহলে অবশ্যই ঘুরে আসুন।  

চামুরচিকে বলা হয় ভুটানের প্রবেশদ্বার। উত্তরবঙ্গের এই ছোট্ট গ্রামে জীববৈচিত্র্য নজর কাড়ার মতো। ছবির মতো সুন্দর প্রকৃতি। রয়েছে পাহাড় চড়ার সুযোগ। চামুরচি থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ডায়না নদীর পাড়ে দেখতে পাবেন ‘মিউজিক্যাল স্টোন কেভ’। গোটা এলাকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। মাটিতে পাথরের টুকরো পড়লেই সুরেলা আওয়াজে ভরে ওঠে গুহা। তাই এমন নাম। 

গোরুচিরা, কালাপানি, রোহিতির মতো কয়েকটি ঘন অরণ্য ঘিরে আছে চামুরচিকে। নানা ধরনের জন্তু-জানোয়ার এবং গাছপালা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। হঠাৎ সামনে চলে আসতে পারে লেপার্ড, হাতি এবং গৌর (ভারতীয় বাইসন)। একা কিংবা দল বেঁধে। ঢেউ খেলানো বিশাল বিশাল অপরূপ চা বাগান কেবল মুগ্ধই করে না, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণেরও প্রেরণা দেয়। চাইলে এক দিনেই ঘুরে আসতে পারেন ভুটান গেট। ভারতীয় প্রজাতন্ত্র এবং ভুটান রাজতন্ত্রের সীমানায় ১৮টি গেট রয়েছে। তার মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয় গন্তব্য।


যদি চামুরচিতে থাকতে চান কয়েক দিন, বেশ কয়েকটি ইকো-হাউজ এবং ক্যাম্প রয়েছে। প্রকৃতির মোহময় আদিমতা উপভোগ করার সব রকম সুযোগ-সুবিধা পাবেন। অনেক রকম অপশন – ইচ্ছে মতো বেছে নিতে হবে। তবে প্রাণ ভরে পাহাড় এবং আশেপাশের জঙ্গল দেখার জন্য সবথেকে উপযুক্ত জলপাইগুড়ি ইকো রিসর্ট। 

কলকাতার থেকে চামুরচির দূরত্ব ৬৫০ কিলোমিটার। বছরের যে কোনো সময়েই যাওয়া যায়। তবে নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে গেলে সবচেয়ে বেশি মজা পাবেন। তখন আকাশ পরিষ্কার থাকে। সহজেই চোখে পড়বে রাজকীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা।   
 

Developed by DXDasia