মা লক্ষ্মী ট্রাভেলস — মৃৎশিল্পী উদয় দাসের স্বপ্নের ‘বাস-বাড়ি’

দিগন্তখোলা মাঠের পাশে মৃৎশিল্পী উদয় দাস নিজের পছন্দমতো এই বাড়িটি নির্মাণ করেছেন

দূর থেকে দেখলে মনে হবে অবিকল একটা বাস। আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে। আপনি হাত দেখালেন। আপনাকে দেখে বাসটি থামল। আপনি বাসে উঠলেন। জানলার ধারে বসে গন্তব্যের দিকে চলেছেন। আপনার চারপাশ জুড়ে সবুজ শস্যক্ষেত। না, এমনটা একেবারেই ঘটবে না। কারণ সেই বাসে আপনি চাপতে পারবেন না। বাসের মতো দেখতে হলেও, আদতে সে মাটির একটি বাড়ি। আর এমন অভূতপূর্ব একটি বাড়ির খোঁজ মিলেছে বীরভূমের এক প্রত্যন্ত গ্রামে।

পাঁড়ুই থানার অন্তর্গত ধানাই গ্রাম। সেখানেই দিগন্তখোলা মাঠের পাশে ওই গ্রামেরই মৃৎশিল্পী উদয় দাস নিজের পছন্দমতো এই বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। মাত্র দশ দিন আগেই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বাড়ির নাম রেখেছেন বাসের নামেই – মা লক্ষ্মী ট্রাভেলস। খরচ পড়েছে তিন লক্ষ টাকা।

উদয়বাবু চেয়েছিলেন, নিজের পছন্দসই একটি বাড়ি হবে তাঁর। তাই আর আগুপিছু না ভেবে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে লেগে পড়েছিলেন বাড়ি নির্মাণের কাজে। ডিজাইন থেকে রং এবং অন্যান্য যাবতীয় কাজে বাসের ছোঁয়ায় ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ওই বাস বাড়িটির রুট নামও লেখা হয়েছে ‘বোলপুর সিউড়ি’। লেখা হয়েছে স্টপেজের নাম। বাসের ছাদের গায়ে যেমন লেখা থাকে ‘রিজার্ভের জন্য যোগাযোগ করুন’ – ঠিক তেমনটাও লেখা হয়েছে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে। মোটের উপর এমন বাড়ি দেখে হতবাক বীরভূমের বাসিন্দারা। বাড়িটি তৈরি হওয়ার পর থেকে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ভিড় জমেছে বাড়িটি দেখার জন্য।মৃৎশিল্পী উদয় দাস সাধারণত প্রতিমা নির্মাণের কাজ করেন। মাটির পাশাপাশি সিমেন্টও কাজে লাগান। প্রচুর মানুষ বায়না নিতে আসেন বাড়িতে। তাঁদের বসার জায়গা থাকে না, বাড়ি এতটাই ছোটো। তাই ঠিকঠাক একটা বাড়ি তৈরির প্রয়োজন ছিল। এমন একটি বাড়ি দেখতে আসছেন আশেপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ। বাংলার শিল্পীর হাতের যাদুতে ধানাই গ্রাম এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এ-ও কি কম বড়ো পাওয়া!

Developed by DXDasia