প্রবল গরমে ঠান্ডা থাকবে পূর্ব বর্ধমানের নীল রাস্তা, হাঁটা যাবে খালি পায়েও!

ভারতে প্রথম নির্মিত হল এই ধরনের রাস্তা

নীল রঙের রাস্তা? শুনে চমকে উঠলেন তো? এই অভাবনীয় ঘটনাই সত্যি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের রায়নাতে। তপ্ত পিচ গলানো রাস্তা, মোরাম-খোয়ার ধুলো ওড়া রাস্তা, হালের ঢালাই রাস্তাকে পিছনে ফেলে বাংলার সড়ক মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরি নীল রাস্তা। পূর্ব বর্ধমানের রায়না দু-নম্বর ব্লকের উচালন গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত একলক্ষ্মী এলাকা। স্থানীয় পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এবং সরকারি ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তায় তৈরি হয়েছে এই রাস্তাটি।

গত মাসের শেষের দিকে এই রাস্তাটি জনসাধারনের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একলক্ষ্মী টোল প্লাজা থেকে রাউতারা সেতু অবধি বিস্তৃত এই রাস্তাটি। দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২০ মিটার। নীল রাস্তা (Blue Road) তৈরির কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে বিটুমিন, পাথর, আর ফেলে দেওয়া, অব্যবহার্য প্লাস্টিক। রাস্তার উপর দেওয়া হয়েছে নীল রঙের কোটিং। গোটা মিশ্রনটি একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করা হয়েছে। তারপর তাতে মেশানো হয়েছে নীল রং। তাতে রাস্তাটি হয়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন। 

 

অল ইন্ডিয়া রোডস অ্যাসোসিয়েশনের ইঞ্জিনিয়াররা রায়নাতে নীল রাস্তাটি তৈরি করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পিচের সঙ্গে ১০ শতাংশ অব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহার করলে কোনও বিক্রিয়া হয় না, বরং রাস্তা হয় টেকসই, খুব গরমেও থাকে ঠাণ্ডা।

তবে শুধু দেখতে সুন্দরই নয়, রাস্তাটি গুণমানেও উন্নত, এমনই দাবি জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের। তাঁদের দাবি, পিচের সঙ্গে প্লাস্টিক মেশানোর ফলে রাস্তার ক্ষয় হবে অনেক কম। পিচ গলবে কম। দূষণও কম হবে। রাস্তায় জলও কম দাঁড়াবে। প্রচণ্ড গরমেও রাস্তাটি থাকবে বেশ ঠান্ডা। তাঁদের দাবি, এমনকী গরমের দিনে খালি পায়েও হাঁটা যাবে এই রাস্তা দিয়ে। 

অল ইন্ডিয়া রোডস অ্যাসোসিয়েশনের ইঞ্জিনিয়াররা রায়নাতে নীল রাস্তাটি তৈরি করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পিচের সঙ্গে ১০ শতাংশ অব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহার করলে কোনও বিক্রিয়া হয় না, বরং রাস্তা হয় টেকসই, খুব গরমেও থাকে ঠাণ্ডা। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা। তার মধ্যে রাজ্য অর্থ কমিশন বরাদ্দ করেছে ১৪ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা, আর পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ৮ লক্ষ টাকা। রাস্তাটিতে বসেছে রিফলেক্টর। অন্ধকারে যাতে অসুবিধা না হয়, তার জন্য রাস্তার দুধারে বসেছে ইন্ডিকেটর। গরমের দেশে, বিশেষত দুবাইতে এই ধরনের রাস্তা আছে। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, দেশে এই রকমের নীল রঙের রাস্তা এই প্রথম। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক ভাবে এই রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীকালে রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও এরকম রাস্তা তৈরি করা হবে। রাস্তাটি নিয়ে স্থানীয়দের উৎসাহ তুঙ্গে। এমনকি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন রাস্তাটি দেখতে।  

Developed by DXDasia