নিরিবিলি সময় কাটানোর আদর্শ বেলাভূমি
বঙ্গোপসাগরের তীরে সাদা বালির সুবিশাল সৈকত। দিঘার মতো ভিড় নেই। সমুদ্রের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা বকখালি। কলকাতা থেকে দিঘা যত কাছে, তার থেকেও বেশি কাছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই পর্যটন কেন্দ্র। দূরত্ব মাত্র ১২৫ কিলোমিটার।
সুবিশাল বেলাভূমি
আকাশে মেঘের খেলা
পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য সৈকতের চেয়ে বকখালির সৌন্দর্য অনেকটাই আলাদা। এখানে ঢেউয়ের গর্জন সব সময়ে থাকে না। ভাটায় সমুদ্র চলে যায় বেশ খানিকটা দূরে। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। তবে, সমুদ্রের খুব কাছাকাছি তখন না যাওয়াই ভালো। নইলে জল বাড়তে শুরু করলে বিপদের সম্ভাবনা থেকে যায়। দূর থেকেই উপভোগ করুন প্রকৃতির খেলা।
বকখালির অবস্থান
বর্ষার হালকা বৃষ্টিতে মায়াবী হয়ে ওঠে বেলাভূমি। সকালে আবহাওয়া মেঘলা থাকলে সমুদ্রের আরেক মোহময় রূপ দেখতে পাবেন। আর জ্যোৎস্না রাতে তো কথাই নেই! তখন যেন স্বর্গ নেমে আসে বকখালিতে। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্যও আপনার চোখ জুড়িয়ে দেবে।
লাল কাঁকড়া
হেনরি আইল্যান্ড
সৈকতে আপনি সময় কাটাতে পারেন লাল কাঁকড়াদের সঙ্গে। বকখালির আরেক বিশেষত্ব এই কাঁকড়ার দল। দূর থেকে দেখতে পাবেন, এরা ঝাঁকে ঝাঁকে বালির ওপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। কাছে গেলেই পায়ের শব্দ পেয়ে গর্তে ঢুকে যাবে। বকখালিতে জেলেদের মাছ ধরাও দেখা যায়। বেলাভূমি ছাড়াও একান্তে সময় কাটানোর জন্য ঝাউবন তো আছেই। সৈকতের কাছেই প্রসিদ্ধ বিশালাক্ষী মন্দিরে ইচ্ছে করলে ঘুরে আসতে পারেন।
বালুতট ট্যুরিজম প্রপার্টি
বকখালির আশেপাশেই রয়েছে আরও কিছু বেড়ানোর জায়গা। যেতে পারেন ফ্রেজারগঞ্জে। সেখানেও পাবেন সমুদ্রসৈকত। হেনরি আইল্যান্ডে আছে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল। শীতকালে এখানে প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে দেখতে পারেন সুন্দরবনের অন্যান্য দ্বীপ। আরেকটি দেখার জায়গা হল জম্বুদ্বীপ। অনেক পাখির দেখা পাওয়া যায় সেখানেও। কাছেই সাগর দ্বীপও রয়েছে।
বালুতট ট্যুরিজম প্রপার্টির একটি অংশ
বালুতট ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান
ছবিসূত্র – WBTDCL