আমফান বিধ্বস্ত কুলতলিতে শিক্ষার আলো জ্বেলে রেখেছেন দরিদ্র গৃহবধূ অসীমা

নিজের বাড়িতেই তিনি শুরু করেছেন পাঠশালা

আমফান ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বাংলার নানা জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভুবনেশ্বরী গ্রাম তার মধ্যে অন্যতম। বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও কুলতলির এই গ্রামে এখনও ধ্বংসলীলার চিহ্ন স্পষ্ট। বহু মানুষ ঘরছাড়া, খাবারের জোগানে সমস্যা দেখা দিয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সূর্য ডোবার পর অন্ধকারই একমাত্র ভবিতব্য। এমন সংকটকালে গ্রামের নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন অসীমা ভাণ্ডারী।

ভুবনেশ্বরী গ্রামের গৃহবধূ অসীমার ছোটোবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের দারিদ্র। অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণির সীমানা পেরোতে না পারলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। বাঁচিয়ে থেকেছেন স্বপ্ন। আমফান সাইক্লোনের পর তিনিই হয়ে উঠলেন গ্রামের জ্ঞানপিপাসু কচিকাঁচাদের আশা-ভরসা।

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত গ্রামের একমাত্র স্কুল রবীন্দ্র শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। কবে খুলবে স্কুল, তা কেউ জানে না। অসীমা কিছুতেই অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তলিয়ে যেতে দেবেন না গ্রামের ছেলেমেয়েদের ভবিষৎ। নিজের সন্তানদের সঙ্গেই গ্রামের অন্যান্য কচিকাঁচাদের নিয়মিত পড়ানো শুরু করেছেন তিনি। সকাল-সন্ধে দু’বেলা অসীমার মাটির বাড়িতেই ক্লাস হয়। দিনে তবু সূর্যের আলো থাকে, সন্ধেবেলা তেলের ল্যাম্পই ভরসা।

ভুবনেশ্বরী গ্রামের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের কাছে এই ক্লাস ‘কাকিমার পাঠশালা’ নামে পরিচিত। পড়ুয়াদের প্রিয় শিক্ষিকা হয়ে উঠেছেন ‘কাকিমা’ অসীমা ভাণ্ডারী। এই বিপর্যস্ত সময়েও নিয়মিত তাঁর বাড়িতে পড়ার জন্য শিক্ষার্থীরা ভিড় করে। নিশ্চিন্ত হয়েছেন অভিভাবকরাও। গোটা গ্রাম অন্ধকারে ডুবে থাকলেও সেখানে অসীমা একাই জ্বেলে রেখেছেন জ্ঞানের প্রদীপ। 

 

Developed by DXDasia