এই দুর্যোগে কলেজ স্ট্রিটের পাশে বাংলার একাধিক মানুষ, বাড়িয়ে দিচ্ছেন সাহায্যের হাত

কোনো কোনো বন্ধুরা জোট বেঁধে অক্ষরকর্মী আর বাঁধাইশ্রমিকদের জন্য ফান্ড রেইজ করছেন

গত দুইমাস ধরে দুর্যোগ ছিলই, পাশাপাশি এসে জুড়ল আরও একটি ভয়ানক দুর্যোগ। করোনা মহামারীর পাশাপাশি সাইক্লোন আমফান। সিএনএন এবং বিবিসির বিশ্লেষণে এই ঝড় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “ওয়ান অফ দ্য স্ট্রংগেস্ট স্লাইকোনস এভার রেকর্ডেড ইন মডার্ন হিস্ট্রি”। ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকার পাশাপাশি ধাক্কা খেয়েছে কলকাতার বইপাড়াও। 

বড়ো বই-ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কলেজস্ট্রিটে বহু ছোটো প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে। অনেকেরই বইপত্র ভিজে গেছে, এমনকি দোকানেও জল ঢুকে পড়েছে। তাছাড়া কলেজস্ট্রিট মানেই শুধুমাত্র বইয়ের দোকান নয়; খাতা, পেন, কাগজ এবং অন্যান্য নানান জিনিস সেখানে পাওয়া যায়। হঠাৎই এমন দুর্যোগে প্রস্তুত ছিলেন না কেউই। 

তবে ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া দুর্যোগের ক্ষত কাটিয়ে উঠবে একটু একটু করে। এমনই কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন অনেক তরুণ লেখক-লিটল ম্যাগাজিন কর্মীরা। ব্যক্তিগত স্তর থেকেও অনেক মানুষ এগিয়ে আসছেন। ভেজা বইগুলি কিনতেও চাইছেন অনেক পাঠক। 

বইপাড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশক এবং প্রকাশনা সংস্থা ধ্যানবিন্দু সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অসংগঠিত এই ব্যবসাক্ষেত্রের অবদান যদিচ সবচেয়ে বেশি এবং এ-ও শুনি যে আমেরিকাকে বাদ দিলে ভারতবর্ষই হল সেই দেশ যেখানে সর্বাধিক বই তৈরি হয়। …মানুষের ভালোবাসা আজ বই ব্যবসায়ীদের থ্যাঙ্কলেস জবকে যে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা দিচ্ছে, করোনা ও আমফান দুর্যোগে বিধ্বস্ত কলকাতাবাসী পুস্তক-ব্যবসায়ী হিসেবে তা আমাদের চক্ষু বার বার সজল করে দিচ্ছে”। 

কেউ অর্থসাহায্য করতে চাইছেন, কেউ ড্যামেজ বই কিনে নিতে চাইছেন, কোনো কোনো বন্ধুরা জোট বেঁধে অক্ষরকর্মী আর বাঁধাইশ্রমিকদের জন্য ফান্ড রেইজ করছেন।

এর আগেও একাধিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে বইপাড়া। তারপর সবকিছু সামলেও উঠেছে। এখন এই পরিস্থিতিতে সমস্ত প্রকাশক-ছাপাখানা-লেখক-লিটল ম্যাগাজিন কর্মীরা যদি সংঘবদ্ধ হন এবং পাঠকরা যদি তাঁদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে নিশ্চয় খুব শীঘ্র নিজস্ব ছন্দে ফিরবে ঐতিহ্যবাহী কলেজস্ট্রিট।

ছবি সৌজন্যে- ধ্যানবিন্দু
 

Post Tags
Developed by DXDasia