তাঁর ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স’ সাড়া ফেলেছে গোটা দেশে
১৯৯৫ সালের ঘটনা। নিজের অসুস্থ মা জফুরান্নেসাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ে জোটেনি কোনো অ্যাম্বুল্যান্স। বাঁচানো যায়নি মাকে। অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি জলপাইগুড়ির মালবাজার এলাকার ধোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা করিমুল হক। সেদিনই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে গ্রামের কাউকে মরতে দেবেন না তিনি। সেই থেকে পথ চলা শুরু। প্রথম দিকে কেউ অসুস্থ হলে তাকে সাইকেলে বসিয়ে ছুটতেন হাসপাতালে। তারপর করিমুলের উদ্যম দেখে কিছু সহৃদয় মানুষ তাঁকে রোগী নিয়ে যেতে মোটর সাইকেল ধার দিতেন। অবশেষে নিজেই একটি মোটর সাইকেল কিনে ফেললেন। সেই গাড়িই হয়ে ওঠে তাঁর বিনামূল্যের অ্যাম্বুলেন্স। মোটর সাইকেলের সামনে তা লিখেও দেন তিনি।
আরও পড়ুন
দুঃস্থ শিশুদের শিক্ষা আর লাইব্রেরি নির্মাণের লক্ষ্যে দীপাবলিতে তৈরি হচ্ছে দূষণমুক্ত প্রদীপ
করিমুল হক পেশায় সুবর্ণপুর চা বাগানের শ্রমিক। পঞ্চাশোর্ধ এই মানুষটিকে এখন ডুয়ার্স-সহ গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষ ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ বলে একডাকে চেনে। আশপাশের কুড়ি-পঁচিশটি গ্রামের মানুষকে তিনি সেবা করেন কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি-অন্ধকার সবকিছু উপেক্ষা করে তিনি রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। নিজের বাড়িতে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্র রেখেছেন। বেশ কয়েকজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর জন্য আবাস তৈরি করে সাধ্যমতো তাঁদের সেবা করে চলেছেন করিমুল। এখন তিনি নিজের বাড়িটাই হাসপাতাল বানিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। করিমুলের বাইক অ্যাম্বুলেন্সের ধারণা সাড়া ফেলেছে গোটা দেশে। সমাজে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেন। উত্তরবঙ্গ-সহ গোটা বাংলার মানুষ এখন করিমুলকে নিয়ে গর্বিত।

সেই সাদামাটা মানুষটির জীবনকাহিনি নিয়ে এবার সিনেমা হতে চলেছে বলিউডে। ছবিটি পরিচালনা করবেন বিনয় মুদগলে। ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ এবং ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ খ্যাত সিনে ইয়ুগ থাকছে এই বায়োপিকের প্রযোজনার দায়িত্বে। ইতিমধ্যেই করিমুলের বাড়িতে এসেছিলেন পরিচালক। করিমুলের চরিত্রে কে অভিনয় করবেন? প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে দু’টি নাম। ফারহান আখতার অথবা আমির খান। বায়োপিকটির নাম এখনও ঠিক হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে শোনা যাচ্ছে, ছবির নাম হতে পারে ‘দেবদূত অ্যাম্বুলেন্সম্যান’। ডুয়ার্স অঞ্চলেই সিনেমাটির শুটিং হবে।
যেহেতু বাণিজ্যিকভাবে ছবিটি তৈরি হবে, সেই কারণে ছবির উপার্জনের একটা অংশ পাবেন করিমুল। করিমুল হক ঠিক করে ফেলেছেন, নিজের বায়োপিক থেকে তিনি যে অর্থ পাবেন, তার পুরোটাই তিনি সরকারের হাতে তুলে দেবেন চেল নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য।