
এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বারুইপুরের ‘স্বপ্নসন্ধান’ সংস্থা
কিছুদিন পরেই কালীপুজো। ঘরে ঘরে আলোর উৎসব। মনের সমস্ত গ্লানি মুছে অন্ধকার থেকে আলোর পথে মেতে উঠবেন মানুষ। প্রশাসনের নির্দেশ থাকলেও শব্দদানবের চিৎকার প্রতিবছর একটু একটু করে বাড়ছে। এই উৎপাত পরিবেশের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ। এমনকি উৎসবে ব্যবহৃত বাজি থেকে দূষণের মাত্রাও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি এই অবস্থায় বাড়ছে দূষণমুক্ত প্রদীপ ও মোমের সামগ্রীর ব্যবহার। কিন্তু কতটুকুই বা! কতজনই বা গুরুত্ব দিচ্ছেন এই পরিবেশ-বান্ধব জিনিসে?
আরও পড়ুন
বঙ্গদর্শন পুজোসংখ্যা, ১৪২৬
দূষণমুক্ত উৎসবের অঙ্গীকার নিয়ে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বারুইপুর থানার অন্তর্গত নড়িদানার ‘স্বপ্নসন্ধান’ সংস্থা। আক্ষরিক অর্থেই স্বপ্নের সন্ধান করছেন এখানকার সদস্যরা। কারণ এই স্বপ্ন শুধুমাত্র সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা আরও পাঁচটা মানুষের স্বপ্ন হয়ে সর্বজনীন হয়ে উঠছে। স্থানীয় দুঃস্থ শিশুদের বিনাপয়সায় লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছে স্বপ্নসন্ধান। শুধুমাত্র দীপাবলি বলে নয়, সারাবছর ধরে চলে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি। দুঃস্থ শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি তারা পরিকল্পনা করেছে একটি গ্রন্থাগার ও হস্টেল নির্মাণের। গ্রন্থাগার নির্মাণের লক্ষ্যেই স্বপ্নসন্ধান দায়িত্ব নিয়েছে মাটির ও মোমের প্রদীপ বানানোর।

বারুইপুর এলাকার লোকজন মিলেই দায়িত্ব নিয়েছে এই প্রদীপ বানানোর কাজে। প্রদীপ বিক্রির লভ্যাংশ তারা ব্যবহার করবে লাইব্রেরি নির্মাণের কাজে। গতবছর থেকেই এই অভিনব উদ্যোগে সামিল হয়েছে স্বপ্নসন্ধানের তরুণ-তরুণীরা। স্বপ্নসন্ধানের পক্ষ থেকে সুমিত মণ্ডল আমাদের জানিয়েছেন, গতবছর প্রায় ৬০০টি প্রদীপ তৈরি করেছিলেন, যার থেকে আয় হয়েছিল প্রায় দশ হাজার টাকা। এই বছর সবমিলিয়ে ১০০০টি প্রদীপ বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাছেই চাম্পাহাটির বাজির বাজার। সেখানেই ছড়িয়ে যাবে এই পরিবেশ-বান্ধব প্রদীপ। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও পৌঁছে যাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কালীপুজোর ঠিক আগে আগেই বাজারে আসতে চলেছে এই স্বপ্ন-দীপ।

আলোর উৎসবে পরিবেশ-বান্ধব এমন অনেক জিনিসই নির্মিত হয়ে চলেছে সারা ভারতবর্ষে। জমকালো আলোয় হারিয়েও যাচ্ছে অনেককিছু। এমন কিছু ছোটো ছোটো স্বপ্ন আজও দেখেন যারা, তাঁদের কজনের নামই বা আমরা জানি! তবু সমস্ত অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে ভবিষ্যতে কী পাবেন আর কী পাবেন না, এইসব অযথা হিসেবে না গিয়ে মনের আনন্দে মেতে উঠছেন কিছু তরুণ-তরুণী। তাঁদের পাশে থাকা কর্তব্য এবং দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বারুইপুরের সুমিতরা এখন সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে।
তথ্য ও ছবি- শুভজিৎ নস্কর
